নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: রবিবার সকালে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল খানাকুল। বাংলাভাষীদের উপর বিজেপির অমানবিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে এদিন বাইক মিছিল করে তৃণমূল। অভিযোগ, সেই মিছিলকে কেন্দ্র করেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একে অপরকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটবৃষ্টি চালায়। ঘটনার প্রতিবাদে বলপাই হাটতলা এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে তৃণমূল। পাল্টা পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ তুলে বিজেপিও রাজহাটি এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। খবর পেয়ে আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বিশাল পুলিস বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এমনকী, তৃণমূলের ‘হামলার’ প্রতিবাদে আজ, সোমবার ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। এদিনের ঘটনার জেরে একজনকে আটক করেছে পুলিস। পুলিসের দাবি, অশান্তি থামাতে গিয়ে তাদের একজন সাব ইন্সপেক্টর সহ তিনজন কর্মী জখম হয়েছেন। খানাকুল থানার পুলিস একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করছে। এসডিপিও জানান, দু’পক্ষের মধ্যে ইট ছোড়াছুড়ি হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের খানাকুল-২ ব্লক সভাপতি রমেন প্রামাণিক বলেন, ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। মিছিল বলপাই এলাকায় আসতেই বিধায়কের উস্কানিতে বিজেপির লোকজন দলীয় কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে। বিজেপির মহিলা সদস্যরাও ছিল। ইটের ঘায়ে পুলিস ও কয়েকজন তৃণমূল কর্মী জখম হয়েছেন। আমাদের দলের কর্মীরা পাল্টা প্রতিরোধ করেন। বিজেপির পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ মিথ্যা। বিজেপির ডাকা বন্ধ ব্যর্থ করবেন এলাকার মানুষজনই।
খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, তৃণমূল বিনা অনুমতিতে বাইক মিছিল করে। পরিকল্পনা করে এলাকার হিন্দু মহিলাদের উপর ইট, পাথর ছুড়েছে তৃণমূলের লোকজন। আমাদের কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে। কর্মীরা আহত হয়েছেন। তৃণমূলের সভাপতির নেতৃত্বেই এই হামলা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা ১২ ঘণ্টার খানাকুল বন্ধের ডাক দিয়েছি। কোনও বাস চলবে না। দোকান পাটও বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবায় ছাড় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে পলাশপাই-২ পঞ্চায়েতের মুচিঘাটা থেকে বাইক মিছিল শুরু করে তৃণমূল। মিছিল শেষ হওয়ার কথা ছিল নতিবপুর বাজারে। কিন্তু, বলপাই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের অভিযোগ, সেখানে বিজেপি ইট ছোড়ে। পাল্টা বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল ইট ছুড়ে হামলা চালায়। এমনকী, দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগও উঠেছে। খবর পেয়ে বিশাল পুলিস বাহিনী সেখানে পৌঁছয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তৃণমূল রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে। নিজস্ব চিত্র