সংবাদদাতা, বহরমপুর: বুধবার রাতে নওদার শিবনগরে তৃণমূল প্রার্থীকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি হয়েছিল। ওই ঘটনায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির(এজেইউপি) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। বৃহস্পতিবারও ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই অশান্তি শুরু হল। এজেইউপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি চলে। উত্তেজিত জনতা একটি গাড়িতে ভাঙচুরও চালায়। অবশেষে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে লাঠিচার্জ করে এলাকার দখল নেয়।
বৃহস্পতিবারের অশান্তির জন্য তৃণমূল নেতৃত্ব হুমায়ুন কবীর ও এজেইউপিকেই কাঠগড়ায় তুলেছে। তাঁদের দাবি, নওদায় শাসকদলের প্রার্থীকে রাজনৈতিক মোকাবিলা করতে না পেরে হুমায়ুন কবীর ল্যাজেগোবরে হয়ে পড়েছেন। জমি হারানোর সম্ভাবনায় অশান্তি পাকিয়ে ভোট বানচালের চেষ্টা করেছিলেন।
মঙ্গলবার এক বালকের বাঁশি বাজানো নিয়ে শিবনগরে উত্তেজনার সূত্রপাত। এতে এজেইউপি সমর্থকদের হাতে দুই তৃণমূল সমর্থক আক্রান্ত হয়েছিলেন। বুধবার রাতে তৃণমূল প্রার্থী শিবনগরে গেলে রাস্তার অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি হয়েছিল। তৃণমূল প্রার্থী অক্ষত থাকলেও এক মহিলা জখম হন।
ওইদিন রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল। বৃহস্পতিবার শিবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭৩ ও ১৭৪নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কয়েকঘণ্টা পর এজেইউপি প্রার্থী হুমায়ুন কবীর শিবনগর পৌঁছাতেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। হুমায়ুনকে পাশে পেয়ে তাঁর অনুগামীরা তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে স্লোগান ও গালিগালাজ দিতে শুরু করে। সেসময় নওদা ব্লক তৃণমূল সভাপতি সেখানেই উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের তরফে পালটা স্লোগান উঠতেই দু’পক্ষের হাতাহাতি, লাঠালাঠি শুরু হয়ে যায়। ইটবৃষ্টিও চলে। নওদায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, রাজ্য পুলিশ ভোট নিয়ন্ত্রণ করছে-এই অভিযোগ তুলে রাজ্য সড়কে বসে পড়েন হুমায়ুন কবির। তবে আধঘণ্টার মধ্যে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে এলাকার দখল নেয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করতে হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(হেডকোয়ার্টার) মাজিদ ইকবাল খান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দুপুর ১টা নাগাদ অতিরিক্ত বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা পুলিশ সুপার শচীন মাক্কার। বিশাল বাহিনী নিয়ে তিনি এলাকায় তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালান। এসপি বলেন, অশান্তি হয়েছিল। তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। তবে বাইরের অশান্তিতে ভোটদান-পর্বে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। এঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। হুমায়ুন কবীর বলেন, পুলিশের সামনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বেআইনি পিস্তল নিয়ে ঘোরাঘুরি করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি। নওদার ব্লক তৃণমূল সভাপতি সফিউজ্জামান শেখ বলেন, যাদের জমি থাকে, তাদেরই জমি হারানোর ভয় থাকে। হুমায়ুন কবির নওদায় জমি তৈরি করতেই পারেনি। নওদায় তাণ্ডব চালিয়েছে। এদিন ঘিরে রেখেছিলাম। পুলিশের মদত নিয়েই ওকে ফিরতে হয়েছে। হঠাৎ শিবনগরে কেন অশান্তি? এই প্রশ্নটাই এলাকার মানুষের মুখে মুখে ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, মঙ্গলবার থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত। তখনই বোঝা গিয়েছিল, শিবনগরে ভোটের দিন কিছু হতে চলেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বুধবার রাতের বোমাবাজিতেই ষড়যন্ত্রের আঁচ মিলেছিল। চক্রান্ত করে ভোট বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে।