Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

পরিবারের ১০ সদস্য খতম, স্বীকার স্বয়ং মাসুদের, ‘আমিও মরে গেলে ভালো হতো’

১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর। কাঠমাণ্ডু থেকে দিল্লি ফিরছিল ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট আইসি ৮১৪। মাঝ আকাশে সেই বিমান ছিনতাই করে কান্দাহারে নামিয়েছিল জঙ্গিরা।

পরিবারের ১০ সদস্য খতম, স্বীকার স্বয়ং মাসুদের, ‘আমিও মরে গেলে ভালো হতো’
  • ৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

লাহোর: ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর। কাঠমাণ্ডু থেকে দিল্লি ফিরছিল ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট আইসি ৮১৪। মাঝ আকাশে সেই বিমান ছিনতাই করে কান্দাহারে নামিয়েছিল জঙ্গিরা। যাত্রীদের মুক্তির শর্তে ভারতের হেফাজত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জয়েশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে। পরবর্তীকালে সেই জয়েশ প্রধানের চক্রান্তেই ভারতে চলেছে একের পর এক জঙ্গি হামলা। ২০০০ সালে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা, ২০০১ সালে সংসদ ভবন, ২০১৬ সালে পাঠানকোটে বায়ুসেনার ঘাঁটি, ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলা— তালিকাটা দীর্ঘ। ঘটনাচক্রে, ১৯৯৯ সালে মাসুদ আজহারের মুক্তির পর থেকে জয়েশের মূল ঘাঁটি হয়ে উঠেছিল পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর। মঙ্গলবার গভীর রাতে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর অন্তর্গত সেই বাহাওয়ালপুরে জয়েশের হেড কোয়ার্টার আল্লা জামিয়া মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এই এয়ারস্ট্রাইকে পরিবারের ১০ জন সদস্য ও চার ঘনিষ্ঠের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন স্বয়ং জয়েশ প্রধানই। তবে কোনও অনুশোচনা বা হতাশা না থাকলেও মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতার কণ্ঠে আক্ষেপের সুর। বলেছেন, ‘প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে আমিও মরে গেলে ভালো হতো।’

Advertisement

ভারতের এয়ারস্ট্রাইকে জয়েশ হেড কোয়ার্টার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর বুধবার মাসুদ আজহারের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। জয়েশ প্রধান বলেছেন, আজ রাতে আমার পরিবারের ১০ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচটি নিষ্পাপ শিশু রয়েছে। মৃত্যু হয়েছে আমার দিদি ও তাঁর স্বামী, আমার ভাগ্নে ও তাঁর স্ত্রী এবং আমার ভাগ্নির। এছাড়া আমার প্রিয় ভ্রাতাপ্রতিম হুজাইফা ও তাঁর মা এবং আমার আরও দুই সঙ্গীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা প্রত্যেকেই আল্লার অতিথি হয়েছে। এজন্য আমার কোনও অনুশোচনা বা হতাশা নেই। বরং বারবার মনে হচ্ছে, আমিও এই ‘সুখী’ ১৪ সদস্যের দলে যোগ দিতে পারলে ভালো হতো। ঈশ্বর মৃত্যু দেননি, ওদের চলে যাওয়ার সময় হয়েছিল।
এদিকে, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের তথ্যমন্ত্রী আজমা বুখারি জানিয়েছেন, বাহাওয়ালপুরে ভারতের এয়ারস্ট্রাইকে জখমদের চিকিৎসা চলছে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে। তাঁদের জন্য সর্বাধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ