নয়াদিল্লি: অবৈধভাবে ঢুকে মিজোরাম ও মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ সহ নানা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ। চলতি বছরের মার্চ মাসে কলকাতা, লখনউ ও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ধরা পড়েছিল মার্কিন নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক সহ ইউক্রেনের ছ’জন বাসিন্দা। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ইউএপিএ-র ধারা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর জামিন পায় ভ্যানডাইক। বৃহস্পতিবার ভ্যানডাইক সহ সাত বিদেশিকে আবার এক মাসের জন্য নিজেদের দেশে ফেরার অনুমতিও দিয়েছে এনআইএ-র বিশেষ আদালত। এনিয়েই চর্চা তুঙ্গে। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িতদের রহস্যজনকভাবে একের পর এক ছাড় দেওয়ার ঘটনায় আক্রমণ শানিয়েছে হাত শিবির। তাঁদের বক্তব্য, আমেরিকার চাপে পড়ে এই কাজ করা হয়েছে। বিদেশি শক্তির কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাজপেয়ির আমলে চাপে পড়ে মাসুদ আজহারকে ছাড়তে হয়েছিল। মোদির শাসনে ভ্যানডাইকের মুক্তিতে সেই স্মৃতি ফিরল।
শুক্রবার রাতে ওয়াশিংটনের বিমানে চড়েছেন ভ্যানডাইক। তিহার জেল থেকে বাড়ির পথে তাঁর সঙ্গীরাও। এনিয়ে কংগ্রেস সাংসদ পবন খেরা বলেন, ‘ভ্যানডাইককে এমনভাবে পাঠানো হল যেন দেশের কোনো অতিথি। মনে করাতে চাই, আমেরিকাই কিন্তু ভারতীয় নাগরিকদের হাতকড়া পরিয়ে সামরিক বিমানে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল। আসলে এতদিন ট্রাম্পের চাপে থেকেই দেশ চালাচ্ছেন ৫৬ ইঞ্চির কাগুজে বাঘ। দেশবাসী এবার জেগে উঠুন।’ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, আবারও আপস করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু এর বিনিময়ে ভারতে কী পেল? এখন প্রশ্ন, সন্দেহভাজন এই সাত বিদেশি কীভাবে দেশে ঢুকল? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর জবাব দিতেই হবে। দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।’
কংগ্রেস নেতা সরল প্যাটেলের কথায়, ‘মাসুদ আজহার মোমেন্ট। ১৯৯৪ সালে ভুয়ো পাসপোর্ট ও নথিপত্র নিয়ে দেশে প্রবেশের মামলায় পাকড়াও করা হয়েছিল মাসুদ আজহার ও তার দুই সঙ্গীকে। বিমান হাইজ্যাকের জেরে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় বাজপেয়ি সরকার। পরে মাসুদ আজহারই জয়েশ-ই-মহম্মদ তৈরি করে এবং ভারতের উপর লাগাতার হামলা চালায়। নরেন্দ্র মোদির আমলে যেন সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটল।’