Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

জয়েশের মহিলা জেহাদি বাহিনীর প্রচারে বার্তা স্বয়ং মাসুদ আজহারের

২১ মিনিটের ভিডিও। বলিষ্ঠ অথচ শীতল কণ্ঠস্বর। মুসলিম মহিলাদের ‘জন্নত’ লাভের দিশা দেখাচ্ছেন তিনি! তবে বাস্তবটা পুরোপুরি ভিন্ন। ‘স্বর্গের দরজা’ খোলার দোহাই দিয়ে আসলে জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের জন্য মহিলা জেহাদি নিয়োগে নেমেছেন স্বয়ং মাসুদ আজহার।

জয়েশের মহিলা জেহাদি বাহিনীর প্রচারে বার্তা স্বয়ং মাসুদ আজহারের
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ২১ মিনিটের ভিডিও। বলিষ্ঠ অথচ শীতল কণ্ঠস্বর। মুসলিম মহিলাদের ‘জন্নত’ লাভের দিশা দেখাচ্ছেন তিনি! তবে বাস্তবটা পুরোপুরি ভিন্ন। ‘স্বর্গের দরজা’ খোলার দোহাই দিয়ে আসলে জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের জন্য মহিলা জেহাদি নিয়োগে নেমেছেন স্বয়ং মাসুদ আজহার। জঙ্গি কার্যকলাপে মুসলিম মহিলাদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও মোতায়েনের ব্লু-প্রিন্টও তৈরি। পাক জঙ্গি সংগঠন জয়েশের ভারত বিরোধী এই নয়া পরিকল্পনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়াবে নয়াদিল্লির।

Advertisement

জয়েশ যে ‘জামাত-উল-মোমিনত’ নামে একটি নয়া মহিলা ব্রিগেড গড়েছে, সেই রিপোর্ট আগেই প্রকাশ্যে এসেছে। অপারেশন সিন্দুরের ধাক্কা সামলানোর কৌশল হিসেবেই এই পদক্ষেপ। এবার স্বয়ং জয়েশ প্রধান মাসুদ আজহারের ফরমানের ওই ভিডিও সামনে এসেছে। বাহওয়ালপুরের মার্কাজ উসমান-ও-আলি থেকে রেকর্ড হওয়া ওই ভিডিওতেই জয়েশ প্রধানের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার আঁচ মিলছে। সেখানে মাসুদ আজহারকে বলতে শোনা যাচ্ছে, যেসব মহিলারা তাঁর এই বাহিনীতে যোগ দেবেন, তাঁরা মৃত্যুর পর কবর থেকেই সরাসরি জন্নত বা স্বর্গে চলে যাবেন!
মুসলিম মহিলাদের নিয়ে কেন এই নয়া বাহিনী গড়ার সিদ্ধান্ত? সরাসরি ভারতের নাম না নিয়ে ভিডিওতে তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন মাসুদ আজহার। এই জঙ্গিনেতার কথায়, ‘জয়েশের শত্রুরা হিন্দু মহিলাদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে মহিলা সাংবাদিক তৈরি করেছে। তার বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াইয়ের লক্ষ্যেই মুসলিম মহিলাদের নিয়ে এই নয়া বাহিনী গড়া হচ্ছে।’ মাসুদ আজহার আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রতিটি জেলায় ‘জামাত-উল-মোমিনতে’র শাখা তৈরি করা হবে। এই জেলা শাখাগুলির নেতৃত্বে থাকবেন একজন করে ‘মুনতাজিমা’। মহিলাদের নিয়োগের বিষয়টি তিনিই দেখভাল করবেন। 
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ‘মুনতাজিমা’ পদে মূলত কমান্ডারদের স্ত্রী, আর্থিকভাবে অতি দুর্বল শ্রেণির মহিলা ও নিহত জঙ্গিদের স্ত্রীদের বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাসুদ আজহার জানিয়েছেন, মহিলা ব্রিগেডের সদস্যদের প্রশিক্ষণ হবে পুরুষ জঙ্গিদের ট্রেনিংয়ের ধাঁচেই। প্রথমে ১৫ দিনের ‘দৌরা-ই-তাসকিয়া’। এরপর চলবে ধর্মীয় ফতোয়ার প্রশিক্ষণ ‘দৌরা-আয়াত-উল-নিসা’। উল্লেখ্য, জয়েশ ইতিমধ্যেই মহিলাদের জন্য জেহাদি প্রশিক্ষণের অনলাইন ক্লাস ও কোর্সের বিজ্ঞাপন দিয়েছে। অনলাইন প্রশিক্ষকের ভূমিকায় থাকছেন মাসুদ আজহারের বোন উম্মে মাসুদ। সপ্তাহে পাঁচদিন করে এই অনলাইন ক্লাস চলবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ