নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর ও ইউনেস্কোর সহায়তায় ‘মাস আর্ট’ সংস্থা আয়োজন করে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো। সেই শো চার বছরে পা দিল। এ বছর প্রবীণ, শারিরীকভাবে প্রতিবন্ধী এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের পুজো দেখানোর সুযোগ করে দিচ্ছে মাস আর্ট। এর গাইডলাইন তৈরির দায়িত্বে খড়্গপুর আইআইটি। ১৮ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর হবে ‘প্রিভিউ ভিজিট’। সন্ধ্যা ছ’টা থেকে ভোর চারটে পর্যন্ত পরিক্রমা চলবে। প্রিভিউ পাস মিলবে বিনামূল্যে।
সোমবার দুর্গাপুজো প্রিভিউ কর্মসূচির ঘোষণা করেন মাস আর্টের সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ)। তিনি জানান, বয়স্ক, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পুজো দেখাতে কেন্দ্রীয় গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। খড়্গপুর আইআইটি, কলকাতা পুলিস এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে হচ্ছে এ কাজ। দুর্গাপুজো প্রিভিউতে অংশ নেওয়া ২৪ পুজো কমিটি এই গাইডলাইন মেনে কাজ করবে। তারপর অন্যান্য পুজো কমিটি চাইলে গাইডলাইন গ্রহণ করতে পারে। শীঘ্রই পুলিস এবং রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে বৈঠক আছে। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বিশেষ কমিশনার ও এক্স অফিসিও ডিরেক্টর কৌশিক বসাক, খড়্গপুর আইআইটি’র আর্কিটেকচার অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক হৈমন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়, আলিপুর মিউজিয়ামের ডিরেক্টর ডঃ জয়ন্ত সেনগুপ্ত সহ ২৪ পুজো কমিটির কর্মকর্তা।
দুর্গাপুজো এখন বিশ্বের সবথেকে বড় পাবলিক আর্ট ফেস্টিভাল। পুজোর দিনগুলি ভিড়ের ফলে অন্যান্য রাজ্য এবং বিদেশ থেকে আসা মানুষ ভালোভাবে এবং খুঁটিয়ে শিল্পকর্ম দেখার সুযোগ পান না। এই বিষয় মাথায় রেখেই শুরু হয়েছিল মাস আর্টের প্রিভিউ শো। অধ্যাপক হৈমন্তী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা পুলিস ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছি। বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখছি। একাধিক পুজোর জায়গা এবং পরিবেশ অন্যরকম। তাই একটি ডায়নামিক গাইডলাইন তৈরি করা হবে। প্রিভিউতে অংশ নেওয়া পুজো কমিটিগুলিকে পাঠানো হবে সে গাইডলাইন। পরবর্তীকালে এটি পুজো কমিটিগুলি চাইলে মানতে পারে।’ ধ্রুবজ্যোতি বসু জানান, প্রিভিউ পাসের জন্য দেওয়া হবে একটি কিউআরকোড। তা স্ক্যান করে ওয়েবসাইটে (মাসআর্ট.ইন) গিয়ে আবেদন করতে পারবেন মানুষ। তবে আাবেদন করলেই পাস মিলবে না। ফর্ম ফিল আপ করতে হবে। সঙ্গে কিছু নথি দিতে হবে। তারপর অনুমোদন মিলবে।
এবছর আলিপুর মিউজিয়াম প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ চলাকালীন আর্ট ফেয়ার হবে। সেখানে ২৪টি পুজোর বিভিন্ন ছবি, থিমের সঙ্গে মানানসই অঙ্কন, স্থাপত্য, ভাস্কর্য শোকেস করা হবে। কলকাতার দুর্গাপুজোর স্মৃতি হিসেবে তা চাইলে কেউ কিনতে পারবেন। সায়ন্তন মৈত্র বোকা এই বিষয়টির দায়িত্বে আছেন। এর পাশাপাশি আলিপুরে থাকছে আরও নানা আয়োজন।
এছাড়া ১৮ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা। ২৪টি পুজোর ছবি তোলার সুযোগ পাবেন ২০০ চিত্রগ্রাহক। তাঁদের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বেছে নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি কলুটোলার বদন চাঁদ রায় বাড়ি এবার অংশ নিচ্ছে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো’তে। আয়োজকদের দাবি, গত বছর প্রায় পাঁচ হাজার বিদেশি কলকাতার পুজো দেখতে এসেছিলেন। এবার সে সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।