নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: তিনমাসে আগেই বিয়ে হয়েছে। দাম্পত্য কলহের জেরে ভিডিও কলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই আত্মঘাতী হলেন এক যুবক! পুলিস জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম খগেন্দ্র চক্রবর্তী (২৪)। শিলিগুড়ি শহরের কাছে ডাবগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠাকুরনগরের বাসিন্দা ছিলেন ওই যুবক। মৃতের দিদি রেণুকা চক্রবর্তীর দাবি, ভিডিও কলে ওর স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা বলেই আত্মঘাতী হয়েছে ভাই।
তিনমাস আগে অমিত বিয়ে করেছিলেন ২৯ বছর বয়সি এক মহিলাকে। পূর্ব বিবাহিত ওই মহিলার আট বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই দম্পতির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অশান্তি চলছিল। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ওই মহিলার ফোনে বিভিন্ন সময়ে অপরিচিত পুরুষের মেসেজ আসত। যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় তুমুল ঝগড়া হতো। গত বুধবারও অমিত ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে ব্যাপক ঝামেলা হয়। মোবাইলে একটি মেসেজ আসা নিয়েই ওই ঝামেল হয়। পরবর্তীতে অমিতের স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। আর ওই ঘটনার পর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অমিত। রবিবার রাতে সেই অবসাদ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়। অমিত সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে পাঁচ মিনিট কথা বলেন। এরপর একটি ভিডিও রেকর্ড করে স্ত্রীকে পাঠান। তারপরই আত্মহত্যার চরম সিদ্ধান্ত নেন।
মৃত অমিতের দিদি রেণুকার দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ভাইয়ের স্ত্রী ফোন করে এবং জানায়, অমিত কোনও কঠিন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। রেণুকা বলেন, সঙ্গে সঙ্গে ভাইরে ঘরের সামনে যাই। দরজা খুলতেই দেখি ভাইয়ের ঝুলন্ত দেহ। কোনওক্রমে ভাইকে পরিবারের সকলে মিলে উদ্ধার করে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিস পরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। যদিও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিউ জলপাইগুড়ি থানায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। পরিবারের দাবি, স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই অমিত এমন কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছে। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমরা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছি। ওই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, মৃত যুবকের দিদি এবং পরিবারের সদস্যরা অমিতের স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, স্বামীর মৃত্যুর বিষয়টি জেনেও স্ত্রী কোনও খোঁজখবর নেয়নি। এমনকী ওই মহিলা ও তার পরিবারের সদস্যরা শিলিগুড়ি ছেড়ে বাইরে কোথাও গা ঢাকা দিয়েছেন। সবমিলিয়ে অমিতের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করছে তাঁর পরিবারের সদস্যরা। রেণুকা বলেন, কীভাবে ঘটনা ঘটল তা তদন্ত করে দেখা উচিত। আমরা এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ জানাব।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে অমিতের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে অমিতের শাশুড়ি মীনা বিশ্বাস বলেন, আমার মেয়েকে একটি ভিডিও পাঠিয়ে জামাই জানিয়েছিল তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ভিডিও দেখেই জামাইয়ের দিদিকে বিষয়টি জানিয়েছিল মেয়ে। আমার মেয়ের কোনও দোষ নেই।