সংবাদদাতা, কান্দি: কনের মোবাইলে একটি মেসেজ আসে। বর ও কনের মধ্যে ‘অবিশ্বাস’ থেকে বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে যায় সংসার। হুলস্থুল কাণ্ড বেধে যায় বর ও কনে পক্ষের মধ্যে। বিয়ে করে স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যেতে রাজি হয়নি বর। কনেও শ্বশুরবাড়িতে যেতে নারাজ। শুক্রবার রাতেই দু’পক্ষের ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। গ্রেপ্তারের পর সকলে কার্যত একই জায়গায় কয়েকঘণ্টা কাটালেও কেউ কারও মুখ পর্যন্ত দেখতে চায়নি। এদিন তাদের সকলকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক সকলের জামিনের অবেদন মঞ্জুর করেন। তবে, শনিবার সুর নরম করেছে দু’পক্ষই। তাই দেনাপাওনার সামগ্রীও বাড়িতে রাখতে চায় না পাত্রপক্ষ। কয়েকদিনের মধ্যেই তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত দু’পক্ষের আর কোনও উচ্চবাচ্য নেই। যেখানে একদিন আগে হইহুল্লোড় হচ্ছিল সেই দুই পরিবারেই এখন নিস্তব্ধতা গ্রাস করেছে। দু’পক্ষের শেষ মীমাংসায় বলা হয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যেই পাত্রীপক্ষের সমস্ত দেনাপাওনা ফিরিয়ে দেবে পাত্রপক্ষ। অপরদিকে পাত্রের দেওয়া আর্শিবাদের আংটিটিও ফিরিয়ে দেবে পাত্রীপক্ষ। তারপর দু’পক্ষ সব ভুলে যেতে চায়।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোররাতে বড়ঞা থানা এলাকার একটি গ্রামে বিয়ের বাসরঘরেই বর ও কনের সংসার ভেঙে যায়। কনের মোবাইলে আসা একটি মেসেজ ঘিরে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। বিষয়টি পুলিস অবধি পৌঁছয়। থানায় দিনভর টানাপোড়েনের পর সন্ধ্যায় বীরভূমের বরকে স্ত্রীকে ছাড়া একাই বাড়ি ফিরতে হয়। আদালতের নির্দেশে কনেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় হোমে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দিনভর দফায় দফায় পাত্র ও পাত্রীপক্ষ আলোচনায় বসে। কিন্তু আলোচনায় কোনও রফাসূত্র বেরোয়নি। কখনও পাত্র তো, কখনও পাত্রী বেঁকে বসায় বিয়ের পরেও নবদম্পত্তির সংসার বসানো যায়নি।