লন্ডন: ইতিহাসের দোরগোড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্ট বিশ্বকাপ জিততে প্রোটিয়া বাহিনীর দরকার আর মাত্র ৬৯ রান। হাতে ৮ উইকেট। খেলা বাকি এখনও দু’দিন। মার্করাম (১৫৯ বলে ১০২) ও বাভুমা (১২১ বলে ৬৫) যেভাবে জাঁকিয়ে বসেছেন, তাতে বড় কোনও অঘটন না ঘটলে লর্ডসে ম্যান্ডেলার দেশের জয়োৎসব শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু দেশটার নাম যে দক্ষিণ আফ্রিকা। না আঁচালে বিশ্বাস নেই। বার বার খেতাবি লড়াইয়ে মুখ থুবড়ে পড়া তাঁদের কাছে নতুন নয়। না হলে কি দ্বিতীয় আইসিসি’র ট্রফি জয়ের জন্য ২৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়! শেষবার তারা ১৯৯৮ সালে জিতেছিল আইসিসি’র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। তারপরও এসেছিল শিখর স্পর্শের সুযোগ। কিন্তু চাপের মুখে ভেঙে পড়া এবং হতাশাই সঙ্গী হয়েছে। এবার ‘চোকার্স’ তকমা ঘোচাতে মরিয়া প্রোটিয়া বাহিনী।
প্রথম দু’দিন যদি হয় বোলারদের, তাহলে তৃতীয় দিনটা ব্যাটারদের। দিনের দ্বিতীয় ওভারে রাবাডার বলে লিয়ঁ আউট হওয়ার পর মনে হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে যবনিকা পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু মিচেল স্টার্কের তিন ঘণ্টা ১০ মিনিটের ইনিংস প্রোটিয়াদের সব হিসেব উল্টে দেয়। ন’নম্বরে নেমে স্টার্ক ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। হ্যাজলউড যখন আউট হলেন, তখন অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২০৭। প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানের লিড পেয়েছিল অজিরা। তাই জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার টার্গেট দাঁড়ায় ২৮২।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৮ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিলেন বাভুমারা। তা দেখার পর লর্ডসের গ্যালারি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিল না, এই ম্যাচে দিনের শেষে জয়ের প্রত্যাশা জাগিয়ে ড্রেসিং-রুমে ফিরবেন প্রোটিয়ারা। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। রিকেলটন মাত্র ৬ রানে ফেরেন। উইকেট উপহার দেন মালডার (২৭)। ক্যাপ্টেন বাভুমাও শুরুতে ছিলেন নড়বড়ে। ক্যাচও তুলেছিলেন। কিন্তু তা ধরতে পারেননি স্মিথ। আর সেটাই যেন ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে রইল।
প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করেন মার্করাম। কামিন্স, স্টার্কের গতি সামলে তিনি পাল্টা প্রত্যাঘাত হানেন। হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকাতে মার্করামের লেগেছে ৬৯ বল। খোঁড়াতে খোঁড়াতে বাভুমা অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ৮৩ বলে। তৃতীয় উইকেটে তাঁরা তুলেছেন ১৪৩ রান। বড় মঞ্চে অজি বোলারদের এভাবে চাপে পড়তে শেষ কবে দেখা গিয়েছিল, মনে করা কঠিন। বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মার্করাম। তৃতীয় দিনের শেষে দুই উইকেটে ২১৩ তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।