নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শুক্রবার গভীর রাতে পানিহাটিতে ভেঙে পড়েছিল একটি বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়ি। এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর নড়েচড়ে বসে পুরসভা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শুক্রবার গভীর রাতে পানিহাটিতে ভেঙে পড়েছিল একটি বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়ি। এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর নড়েচড়ে বসে পুরসভা।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে শহরজুড়ে সমীক্ষার কাজ শুরু করবে তারা। বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা প্রতিটি বাড়ি চিহ্নিত করে ব্যানার ঝুলিয়ে দেবে। এছাড়া বিপজ্জনক বাড়ির মালিকদের চিঠি পাঠিয়ে ভাঙার নির্দেশও দেবে। পুরসভা জানিয়েছে, সমীক্ষা ও সতর্কীকরণের কাজ একসঙ্গে চলবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটি পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের এম এন চ্যাটার্জি রোডে বিপজ্জনক বাড়িটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল। দেবকুমার শ্রীমাণী (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। মৃতের স্ত্রী ও সন্তান তখন অন্য ঘরে থাকায় বরাত জোরে রক্ষা পান। এরপর বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে পুলিস ও প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন তোলা শুরু করেন নাগরিকরা। তবে পুরসভার যুক্তি, পানিহাটি প্রাচীন শহর। গঙ্গা লাগোয়া এই এলাকায় বহু আগে তৈরি হয়েছিল জনবসতি। সে কালের কড়ি বরগার বাড়ি আজও বহু জায়গায় রয়েছে। অধিকাংশ বাড়ি নিয়ে শরিকি বিবাদ চলছে। ফলে আইনি জটিলতায় পড়ে থাকার কারণে সেগুলি ভগ্নপ্রায়। যাঁরা সচ্ছল তাঁরা অন্যত্র সম্পত্তি কিনে উঠে গিয়েছেন। কিন্তু অনেকের আর্থিক সংস্থান না থাকায় বিপজ্জনক বাড়িতেই বসবাস করছেন। আইনি সমস্যায় সংস্কার করতে পারছেন না। শহরজুড়ে এমন বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা শতাধিক। সেখানে বসবাস, ব্যবসা ইত্যাদি চলে।
তবে পুর নাগরিকদের অভিযোগ, রাস্তা লাগোয়া বাড়িগুলি ভয়ানক বিপজ্জনক। যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। এই বিষয়ে সতর্ক করে ব্যানার বা বোর্ড এতদিন লাগায়নি প্রশাসন। ফলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা। পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, ‘বিপজ্জনক বাড়ি চিহ্নিতকরণ ও সতর্কতামূলক ব্যানার দেওয়া ও মালিকপক্ষকে চিঠি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরুর সিদ্ধান্তও হয়েছিল। দুর্ভাগ্য আমাদের সার্ভে শুরুর আগেই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল।’