Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষের বাজার মন্দা, ক্ষতির শঙ্কা মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীদের

চলতি বছর ঈদ মরশুমে মুখে হাসি ফুটেছিল হাওড়ার মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীদের। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অশান্তির ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের সেই হাসি যেন মিইয়ে গিয়েছে।

চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষের বাজার মন্দা, ক্ষতির শঙ্কা মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীদের
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: চলতি বছর ঈদ মরশুমে মুখে হাসি ফুটেছিল হাওড়ার মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীদের। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অশান্তির ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের সেই হাসি যেন মিইয়ে গিয়েছে। এবার চৈত্র সংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখের বাজার মন্দা গিয়ে বলে জানিয়েছেন মঙ্গলাহাটের ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা। রামনবমীতে অশান্তির আশঙ্কা করে গত কয়েক সপ্তাহে সেভাবে দেখা মেলেনি ভিন রাজ্যের খরিদ্দারদের।

Advertisement

শীতকালীন বাজার মিটলেই মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরা মূলত তাকিয়ে থাকেন ঈদ ও চৈত্র ছেলের কেনাকাটার উপর। মূলত এই সময় ব্যবসা ভালো হলে শহরতলি, মফস্‌সল, গ্রামগঞ্জের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি চওড়া হয়। চৈত্র মাসের শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত কুড়ি থেকে পঁচিশ কোটি টাকার বেচাকেনা হয় মঙ্গলাহাটে। কিন্তু এবছর ছবিটা সম্পূর্ণ বিপরীত। গত কয়েক সপ্তাহে আট কোটিরও ব্যবসা হয়েছে কি না, সন্দেহ। ব্যবসায়ীদের দাবি, রামনবমীর সময় অশান্তির আঁচ করে হিন্দি বলয়ের বহু রাজ্য থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মঙ্গলাহাটে সেভাবে ভিড় করেননি। এরপর ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনে যেভাবে বিভিন্ন জেলায় অশান্তির ঘটনা ঘটছে, তাতে চৈত্র সেলের বাজার ব্যাপক মার খেয়েছে। বিশেষ করে নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর থেকে গরমের পোশাক কিনতে এসেছেন সীমিত কিছু খরিদ্দার। হাওড়া ও সংলগ্ন কয়েকটি জেলা থেকে শুধু খুচরো ব্যবসায়ীরা পোশাক কিনতে এসেছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, পয়লা বৈশাখ শুধু এই রাজ্যে নয়, পার্শ্ববর্তী অসম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়েও বড় উৎসব। প্রচুর সংখ্যায় খরিদ্দার আসেন সেইসব রাজ্য থেকে। কিন্তু এবার তাঁদের সংখ্যা হাতেগোনা।
পোড়া মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত বলেন, ‘ঈদের পর ব্যবসা এতটা খারাপ হবে বোঝা যায়নি। চৈত্র সংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখের বাজার মার খাওয়ার অর্থ দুর্গাপুজো পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের চরম ক্ষতি। বিশেষ করে বড় ব্যবসায়ীদের অনেকটাই লোকসান হয়েছে এবার।’ মঙ্গলাহাটের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বিহু উৎসবের জন্য এই সময় অসম থেকে ভালো সংখ্যক খরিদ্দার আসেন আমার দোকানে। শিশু ও মহিলাদের অনেক পোশাক তুলেছি। মহাজনের বকেয়া মেটানোই এখন দায় হয়ে উঠেছে। কর্মচারীদের নববর্ষের বোনাস দেওয়া যাবে না।’ পাশাপাশি অনলাইন শপিংয়ের দাপটেও যে উৎসব মরশুমে মঙ্গলাহাটের ব্যবসা ফিকে হয়ে আসছে, তাও স্বীকার করছেন ব্যবসায়ীরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ