সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ থানার পিছনে এমপি সোয়াইকা রোডের সোনাপট্টি থেকে পোড়াঘাট মোড় পর্যন্ত রাস্তার উপরে বসে বাজার। সংকীর্ণ এই রাস্তা দখল করে ২০-২৫জন ব্যবসায়ী ফল, সব্জি, মিষ্টি ও চায়ের দোকান পেতে বসেছেন। ফলে প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রতিদিনই এই রাস্তা দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এমনকী, পোড়াঘাট সহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের অনেকটা ঘুরপথে নবদ্বীপ থানায় পৌঁছতে হচ্ছে। এলাকার অসুস্থ মানুষকে অ্যাম্বুলেন্স করে নিয়ে যেতেও অসুবিধায় পড়তে হয়। বাজার চলাকালীন এই রাস্তা দিয়ে সাইকেল নিয়েও যাতায়াত করা যায় না। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাবে না কেন? স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অন্ততপক্ষে সাধারণ পথচারীদের সুবিধার জন্য রাস্তাটি ছেড়ে ব্যবসা করুন ব্যবসায়ীরা। এই রাস্তার পাশেই রয়েছে গোস্বামী বাজার। সেখানে এই ব্যবসায়ীদের বসার ব্যবস্থা করা হোক।
নবদ্বীপের অন্যতম প্রাচীন পোড়াঘাট সংলগ্ন গোস্বামী বাজার। এই বাজারের ভিতরেই আগে সমস্ত দোকানপাট বসত। ইদানীং এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বেশ কয়েক বছর ধরে বাজার সংলগ্ন পোড়াঘাটের রাস্তা দখল করে দোকান পেতে বসছে। বড় ঝুড়ি নিয়ে কিছু দোকানদার রাস্তার উপরেই বসে পড়ছে। এমনকী, ওই এলাকায় কিছু ব্যবসায়ী তাদের দোকান রাস্তা পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছে। বাজার চলাকালীন রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকে ভ্যান, রিকশ, স্কুটি, টোটো, বাইক সহ অন্যান্য যানবাহন। এরফলে যাতায়াতে আরও অসুবিধা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মদন সাহা বলেন, এই রাস্তাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। পোড়াঘাটের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পোড়াঘাট চড়া, ফেরিঘাট, বড়ালঘাট সহ আশপাশের অঞ্চলের বাসিন্দারা এই রাস্তা দিয়েই থানা, ইলেক্ট্রিক অফিস, ব্যাঙ্কে যান।
স্থানীয় পোড়াঘাট চড়ার বাসিন্দা বলাই পাল বলেন, ওই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে যানজটের জেরে দমকলের গাড়িও ঢুকতে পারবে না। নবদ্বীপ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন দাস বলেন, চৈতন্যভূমি নবদ্বীপে প্রতিদিনই বহু মানুষ বাইরে থেকে আসে। এমনিতেই প্রাচীন এই শহরের রাস্তাঘাট সংকীর্ণ। এরমধ্যে পোড়াঘাট রোডে কিছু ব্যবসায়ী রাস্তার উপরেই ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন। তাঁদের কাছে অনুরোধ, রাস্তাটা পথচারীদের জন্য ছেড়ে ব্যবসা করুন। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, রাস্তা উন্মুক্ত করা এবং হকার্সমুক্ত করার অভিযান দীর্ঘদিন আগেই শুরু হয়েছে। তাদের অনেককেই পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রেও, এসব ব্যবসায়ীদের ডেকে কথা বলতে হবে। তাঁরাও নবদ্বীপের সুনাগরিক। তাঁরা এগিয়ে এসে আলোচনার মধ্যে দিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন বলে আশা রাখি। -নিজস্ব চিত্র