Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফল ও সব্জির আড়ালে গাঁজা পাচার, ওড়িশার এক বাসিন্দা সহ গ্রেপ্তার মাস্টারমাইন্ড জিতেন্দ্র

ফল ও সব্জির আড়ালে গাঁজা পাচার, ওড়িশার এক বাসিন্দা সহ গ্রেপ্তার মাস্টারমাইন্ড জিতেন্দ্র
  • ১৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বড় ফলপট্টি আসানসোল। সব্জি মার্কেটও অত্যন্ত বড়। প্রতিদিন গভীর রাত থেকে আসানসোল অভিমুখে ফল ও সব্জি বোঝাই করে ছোটে অজস্র ম্যাটাডোর। এই কারবারকে হাতিয়ার করেই ওড়িশা থেকে শিল্পাঞ্চলে গাঁজা পাচারের ছক কষা হয়েছিল। ফল ও সব্জিবোঝাই ম্যাটাডোরের ট্রের ভিতরেই রাখা হয়েছিল ৫০টি গাঁজাভর্তি স্ল্যাব(প্যাকেট)। এই পাচারের খবর চলে আসে পুলিসের কাছে। আসানসোল ঢোকার মুখে রবিবার রাতে জামুড়িয়া থানার নিঘায় ম্যাটাডোরগুলিতে তল্লাশি চালায় পুলিস। তাতেই গাঁজা পাচারের পর্দাফাঁস হয়। একটি ম্যাটাডোর থেকে ৯০কিলোগ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। গ্রেপ্তার হয় বার্নপুর এলাকার কুখ্যাত গাঁজা পাচারকারী জিতেন্দ্র প্রসাদ ও ওড়িশার বাসিন্দা কালিয়া নায়েক। সোমবার অভিযুক্তদের আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক ২১জুন পর্যন্ত পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

সরকারি আইনজীবী সোমনাথ চট্টোরাজ বলেন, পুলিস এদিন অভিযুক্তদের নিজ হেফাজতে নেওয়ার আর্জি করে। বিচারক তা মঞ্জুর করেছেন।
শিল্পাঞ্চলের অন্যতম বড় মাদক কারবারি জিতেন্দ্র প্রসাদ। হীরপুর থানার বার্নপুর নিউটাউন এলাকার এই বা঩সিন্দা শিল্পাঞ্চলের নানা প্রান্তে গাঁজা পাচার করে। তার কাজ ওড়িশা থেকে গাঁজা এনে মজুত করা। তারপর তার সাপ্লাই চেনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রান্তে তা পৌঁছে দেওয়া। এই কাজ করতে গিয়ে আগেও সে পুলিসের হাতে ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন হাজতবাসের পরও তার পরিবর্তন হয়নি। জেল থেকে বেরিয়েই সে নিজের কারবার সচল করতে উঠেপড়ে লেগেছিল। এই খবর এসেছিল পুলিসের কাছেও। পুলিস তার উপর নজরদারি শুরু করে।
পুলিসের চোখে ধুলো দিয়েই ওড়িশা যায় জিতেন্দ্র। সেখানকার বাসিন্দা কালিয়া নায়েককে নিয়ে গাঁজা সমেত বাংলার উদ্দেশে পাড়ি দেয় সে। পুলিসের নজর এড়াতেই এবার ফল ও সব্জিবোঝাই ম্যাটাডোরের মধ্যে গাঁজা রাখা হয়। পুলিসের কাছে সেই খবর আসে। তারা জানতে পারে, দুর্গাপুর থেকে আসানসোল অভিমুখে ম্যাটাডোরে করে গাঁজা পাচার হচ্ছে। সেইমতো ১৯নম্বর জাতীয় সড়কের নিঘায় সার্ভিস রোডের উপর নাকা চেকিং শুরু হয়। সেখানেই ওই বিপুল গাঁজা উদ্ধার হয়। জামুড়িয়া থানার পুলিসের পাশাপাশি আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নিয়ম মেনে সেখানেই গাঁজার ওজন করা হয়। তারপরই গ্রেপ্তার করা হয় ওই দু’জনকে।
এর আগে রানিগঞ্জে মাছের গাড়িতে করে গাঁজা পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিয়েছিল পুলিস। এছাড়া, শিল্পাঞ্চলে ট্রলিব্যাগে করে মাঝেমধ্যেই গাঁজা পাচারের চেষ্টা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গাঁজা আসছে ওড়িশা থেকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ