সংবাদদাতা, রামপুরহাট: না জানিয়ে ছুটি নেওয়ায় মাড়গ্রাম হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে শোকজ করল প্রশাসক। দু’দিনের মধ্যে শোকজের উত্তর দিতে বলা হয়েছে। এদিকে এদিন মাদ্রাসায় না এলেও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন অনিয়মের তালিকায় থাকা ১৫ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী। তাঁদের প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন প্রধান শিক্ষক গোলাম মহম্মদ।
অভিযোগ, ২০১৯ সালে এই মাদ্রাসায় ১১ জন শিক্ষক ও চারজন অশিক্ষক কর্মীকে অবৈধভাবে নিয়োগ করে ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক। নিয়োগের তালিকায় রয়েছেন প্রধান শিক্ষকের ছেলে। তাঁকে ক্লার্ক পদে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু চাকরিতে যোগ দিলেও তাঁরা বেতন না পাওয়ায় হাইকোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা করেন। অবশেষে রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসার ৪৯৮ জনকে ভুয়ো ঘোষণা করে মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তর। সেই তালিকায় মাড়গ্রাম হাই মাদ্রাসার ১১ জন শিক্ষক ও ৪ জন অশিক্ষক কর্মী রয়েছেন। এরই মধ্যে বুধবার আচমকা মাড়গ্রাম হাই মাদ্রাসায় আসেন রাজ্য সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তরের সচিব পি বি সেলিম, জেলাশাসক বিধান রায় সহ পুলিস, প্রশাসনের একদল আধিকারিক। যদিও প্রধান শিক্ষক রাতারাতি একজনকে টিআইসির চার্জ দিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনিক কর্তারা শিক্ষকদের হাজিরা খাতা সিজ করার পাশাপাশি ওই ১৫ জনকে মাদ্রাসায় আসতে নিষেধ করেন।
এদিন প্রধান শিক্ষক বলেন, এই ১৫ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী ভুয়ো নয়। নিয়ম মেনেই তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে। ওঁরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। বলেছি এখন এমসি নেই, প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করুন। ওঁরা আবার সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। সেই সময় নিষেধ করা সত্ত্বেও এমসি আমাকে খুশি করতে ছেলেকে নিয়োগ করেছিলেন। আমার এখন অনেক ছুটি পড়ে রয়েছে। প্রতিদিন মাদ্রাসা যাই না। বর্তমানে ১৪ দিনের ছুটিতে রয়েছি। তবে আধিকারিকরা আসবেন জানলে যেতাম।
এদিকে কেন তিনি বুধবার স্কুলে হাজির ছিলেন না, তা জানতে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে এই স্কুলে ম্যানেজিং কমিটি নেই। এসআই গৌসুল আজম প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক জানিয়ে ছুটি নেননি। ওঁকে শোকজ করা হয়েছে। দু’দিনের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এরপর যেমন নির্দেশ আসবে, সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে।