Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ, ১৪ মার্চ গণহত্যা দিবস, নন্দীগ্রামে শহিদ স্মরণে তৈরি তৃণমূল ও বিজেপি

আজ, ১৪ মার্চ গণহত্যা দিবস, নন্দীগ্রামে শহিদ স্মরণে তৈরি তৃণমূল ও বিজেপি
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আজ, শুক্রবার ঘড়ির কাঁটা ধরে নন্দীগ্রামে ১৪মার্চ গণহত্যার বর্ষপূর্তি পালন করবে তৃণমূল ও বিজেপি। গোকুলনগরের অধিকারী পল্লি এবং সোনাচূড়ার ভাঙাবেড়্যায় দুই দলের পক্ষ থেকে আলাদা কর্মসূচি নেওয়া হবে। যুযুধান দুই দলের কর্মসূচি ঘিরে উত্তাপ চড়ছে। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে দুই দলের আলাদা কর্মসূচি ঘিরে যাতে অশান্তি না হয় সেজন্য সতর্ক রয়েছে পুলিস। দুই জায়গায় পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানা গিয়েছে। গত ১১ মার্চ নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত দু’পক্ষকে থানায় ডেকে বৈঠক করেছেন। সেখানে দুই দলের কর্মসূচির জন্য সময় ভাগ করে দেওয়া হয়। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করবে বিজেপি। সাড়ে ১০টার পর শহিদস্মরণ কর্মসূচি শুরু করবে তৃণমূল। 

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে জমি রক্ষার আন্দোলন রক্তক্ষয়ী হয়ে ওঠে। পুলিসের গুলিতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। গণধর্ষণের ঘটনাও ঘটে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে একটাই শহিদস্মরণ সভা হতো। কিন্তু, ২০২০ সাল থেকে তৃণমূল ও বিজেপি আলাদাভাবে কর্মসূচি নেওয়া শুরু করে। এবারও আলাদাভাবে শহিদস্মরণ হবে। এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় মাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আছে। এবার ১৪ মার্চ দোল উৎসব পড়ে যাওয়ায় লোকজন জমায়েত নিয়ে দু’দলই চাপে রয়েছে।
২০১৪ সালে রাজ্য সরকার নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলন পর্বের বেশকিছু মামলা প্রত্যাহারের জন্য নিম্ন আদালতে আবেদন করেছিল। ওইসব মামলা মূলত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেই ছিল। নিম্ন আদালতে সেগুলি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু, ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্ট এরকম ১০টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছে। নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় ওইসব মামলা দায়ের হয়েছিল। আজ, ১৪ মার্চ শহিদস্মরণ সভায় এই ঘটনা নিয়ে দু’পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে তৈরি। জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে শহিদস্মরণ সভায় রাজ্য থেকে জয়া দত্ত আসবেন। এছাড়াও জেলা নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা উপস্থিত থাকবেন। অধিকারী পল্লিতে একই শহিদ বেদিতে দু’দলের পক্ষ থেকে মালা দেওয়া হয়। একপক্ষ মালা দেওয়ার পর সেসব সরিয়ে, জল দিয়ে ধুয়ে অন্যপক্ষ শহিদবেদি সাজিয়ে তোলে। তবে, ভাঙাবেড়্যায় দু’দলের কর্মসূচির জায়গা আলাদা। একশো মিটার দূরত্বে পৃথক শহিদ বেদিতে মালা দেওয়া হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা স্বদেশ দাস বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া দু’জন ধর্ষিতার বিরুদ্ধেও জমি আন্দোলনের মুহূর্তে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। শহিদ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। একসঙ্গে ১০টি মামলা রি-ওপেন করার ফলে অনেক আন্দোলনকারী ভীত। যাঁরা আন্দোলনে দমন পীড়ন চালাত এখন তারাই বিজেপির ব্যাজ লাগিয়ে ১৪ মার্চ শহিদ স্মরণ সভায় উপস্থিত হন। আন্দোলনকারীদের ফৌজদারি মামলায় বেঁধে তাঁদের বিপক্ষ শিবিরকে নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। পদ্মপার্টির এই দ্বিচারিতা আর সহ্য করবেন না নন্দীগ্রামের মানুষ। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালত থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য আমি সবচেয়ে বেশি দৌড়ঝাঁপ করেছি। যে ১০টি মামলা বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে তাতে বিবাদীর তালিকায় বিজেপির নেতারাও আছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ