সংবাদদাতা, লালবাগ: দ্বারকা ও ব্রাহ্মণীর জলে নবগ্রাম ব্লকের রসুলপুর পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রসুলপুর পঞ্চায়েতের বাকিপুর, পিরোলডাঙা, শুকদেবপুর, চন্দ্রহাট, কচুবাড়ি, দেরুল, ফকিরপুর সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বাদশাহি সড়ক থেকে ওই গ্রামগুলি যাওয়ার মূল ঢালাই রাস্তা প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে জলের তলায় রয়েছে। খুব প্রয়োজনে গ্রামবাসীদের কোথাও কোমর, আবার কোথাও বুক জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামগুলির ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা একপ্রকার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রসুলপুর পঞ্চায়েতের পাশাপাশি সোমবার সকালে ব্রাহ্মণীর জল ঢুকে হজবিবি পঞ্চায়েতের মিল্কি গ্রামের আদিবাসী পাড়া প্লাবিত হয়। বেশ কয়েকটি মাটির বাড়ি ভেঙে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে মিল্কি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ওই পরিবারগুলিকে শুকনো খাবার, জামাকাপড়, ত্রিপল প্রভৃতি ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়। এদিকে বৃষ্টি ও নদীর জলে নবগ্রাম ব্লকে ধানচাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নবগ্রাম বিডিও অঙ্কিত আগরওয়াল বলেন, রসুলপুর পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ওই গ্রামগুলিতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ব্লক অফিস থেকে ত্রিপল সহ অন্যান্য সামগ্রীও দেওয়া দেওয়া হচ্ছে। ব্লকের চার হাজার হেক্টরের বেশি ধানের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। চাষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে একটা প্রাথমিক রিপোর্ট ইতিমধ্যে জেলাশাসককে পাঠানো হয়েছে। নিম্নচাপের একটানা বৃষ্টি এবং দ্বারকা ও ব্রাহ্মণীর জলে নবগ্রাম ব্লকে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রসুলপুর পঞ্চায়েতের আট-১০টি গ্রাম জলবন্দি হয়ে রয়েছে। গ্রামগুলির কয়েক হাজার পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
চন্দ্রহাটের পীযূষ দাস বলেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে জলবন্দি হয়ে রয়েছি। ওষুধ কিনতে পাঁচগ্রাম এসেছিলাম। জল পেরিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। কচুবাড়ির বাসিন্দা বিমল দাস বলেন, চার বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। দুই সপ্তাহ ধরে ধানের জমি জলের তলায় ডুবে রয়েছে। সব নষ্ট হয়ে যাবে। সোদপুরের রাজেশ শেখ বাকিপুর নজরুল বিদ্যাপীঠের নবম শ্রেণির পড়ুয়া। রাজেশ জানায়, স্কুল যাওয়ার গোটা রাস্তা জলের তলায়। এদিকে পরীক্ষা চলছে। স্কুলে না গিয়ে উপায় নেই। ঝুঁকি নিয়েই যেতে হচ্ছে।
মিল্কি গ্রামের আদিবাসী পাড়ার জয়ন্তী রাজবংশী বলেন, ঘর ভেঙে পড়েছে। ছেলেপুলে নিয়ে স্কুলে রয়েছি। এদিকে নবগ্রাম ব্লকের ছ’টি অঞ্চলের ধানের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জেলা কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ব্লকের রসুলপুর, হজবিবি ডাঙা, নবগ্রাম, পাঁচগ্রাম, গুড়াপাশলা ও শিবপুর এই ছ’টি অঞ্চলের বেশিরভাগ ধানের জমি জলের তলায় রয়েছে। জল নামতে তিন থেকে চার সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। জলমগ্ন খেলার মাঠ।