Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহু শিক্ষকের চাকরি বাতিল, উচ্চ মাধ্যমিকে পঠনপাঠন নিয়ে সংশয়

বহু শিক্ষকের চাকরি বাতিল, উচ্চ মাধ্যমিকে পঠনপাঠন নিয়ে সংশয়
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: উৎসশ্রী প্রকল্পে আগেই বদলি নিয়েছিলেন কলা বিভাগের দর্শনের শিক্ষক। কোনওক্রমে অন্যান্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় চলছিল ওই বিষয়ের ক্লাস। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে একসঙ্গে স্কুলের ছ’জন শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে। ফলে কলা বিভাগের এডুকেশন থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সের শিক্ষক সংখ্যা বর্তমানে কার্যত শূন্য। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ইংরেজি ছাড়া কলা বিভাগের কোনও শিক্ষক রইলেন না কেউই। একাদশ-দ্বাদশের পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সিঁদুরে মেঘ দেখছে সাগরপাড়ার সীতানগর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুধু ওই স্কুল নয়, ডোমকল মহকুমার একাধিক স্কুলে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকের চাকরি বাতিল হওয়ায় সমস্যায় পড়ছে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শুধু পঠনপাঠনেই নয়, পরীক্ষার খাতা দেখা নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকরিহারা শিক্ষকদের অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার খাতা দেখতে অনীহা প্রকাশ করছেন। চাকরি হারানো শিক্ষকরা কেন পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখবেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে! কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, মূলত উঁচু শ্রেণিগুলির বিজ্ঞান, কলা বিভাগের বিষয়গুলির খাতা দেখার জন্য ওই বিষয়ের শিক্ষক প্রয়োজন, তাঁরা না থাকলে পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা নিয়েও সমস্যা হতে পারে। এদিকে এপ্রিলের মধ্যেই স্কুলগুলিতে প্রথম পার্বিক পরীক্ষার খাতা দেখে  ফলাফল প্রকাশ করার নির্দেশ রয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে কম শিক্ষক নিয়ে কীভাবে ওই কাজ সম্পূর্ণ হবে, তা নিয়েও সংশয় বাড়ছে।সাগরপাড়ার সীতানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম আলি বলেন, আগেই দর্শনের শিক্ষক বদলি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। যে ১৮জন শিক্ষক এতদিন ক্লাস  নিতেন তাঁদের মধ্যে ছ’জনের চাকরি বাতিল হয়েছে। ইংরেজি বাদ দিয়ে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কলা বিভাগের নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক নেই বললেই চলে। শিক্ষক থেকে করণিক সবাই মিলে পরীক্ষা নিয়েছেন পড়ুয়াদের। তবে এভাবে কতদিন চলবে তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আবার নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক না থাকলে পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখা নিয়েও সমস্যা দেখা দিতে পারে।শিক্ষক বাতিলে সমস্যা হচ্ছে নবিপুর সরলাবালা হাইস্কুলেও। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইজাজুল হোসেন বলেন, এর আগে কেমিস্ট্রির একজন শিক্ষক বদলি নেওয়ায় ওই বিষয়ের কোনও শিক্ষক ছিলেন না। এরমধ্যেই বায়ো সায়েন্স ও অঙ্কের দুই শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। এখন ওই বিষয়গুলির পঠনপাঠন চালিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ