নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ফর্ম ফিলআপ করেও অনেক পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেনি। তার জেরে শিক্ষামহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে একাধিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেনি। তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে আরামবাগ মহকুমাজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এব্যাপারে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করেছে। যদিও শাসকদল বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শাসকদলের দাবি, পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় অনুপস্থিতির হার মোটেও উদ্বেগের নয়।
জানা গিয়েছে, গত সোমবার থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। তাতে আরামবাগের কালীপুর স্বামীজি হাইস্কুলের কেন্দ্রে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল বলে শিক্ষাদপ্তর সূত্রে খবর। ওই কেন্দ্রে গোঘাট ও আরামবাগ থানা এলাকার একাধিক স্কুলের পরীক্ষার্থীদের সিট পড়েছে। বালি হাইস্কুলে অবশ্য একজন অনুপস্থিত আছে। চাঁদুর হাইস্কুলে দু’জন, আরামবাগ শহরের পারুল হাইস্কুলে একজন অনুপস্থিত আছে। নির্ভয়পুর বিজি নীলকান্ত শিক্ষা নিকেতনে চারজন পরীক্ষা দিতে আসেনি। তিরোল হাইস্কুলেও চারজন পরীক্ষা দিতে যায়নি। অন্যান্য কেন্দ্রগুলিতে এক বা তার বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেনি।
শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকদের একাংশের মতে, অনেক সিসি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন নতুন পরীক্ষার্থী আসেনি। এখন মাধ্যমিক পাশ করে একাদশে ভর্তি হলেই সরকারের তরফে ট্যাব কেনার টাকা পায়। তাছাড়া, অন্যান্য সুবিধাও আছে।
খানাকুলের ধান্যঘোরী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্ভু গায়েন বলেন, আমাদের স্কুলের এক ছাত্রী সহ দু’জন পরীক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছে। ১০৪ জন পরীক্ষা দিচ্ছে।
বিজেপির পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। কর্মসংস্থান নেই। ফলে অনেক পড়ুয়া মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে কাজ করছে। তাই শেষ মুহূর্তে মাধ্যমিকে বসেনি। পুরশুড়ার ভাঙামোড়া নূতনগ্রাম কেএনসিএম ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক তথা তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি উৎপল রক্ষিত বলেন, আমাদের স্কুলের পরীক্ষার্থীরা প্রত্যেকেই পরীক্ষা দিচ্ছে। হাতেগোনা কয়েকজন অনুপস্থিত আছে। তাতে উদ্বেগের কিছু নেই। তবু অনুপস্থিতির কারণ খতিয়ে দেখা হবে। বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন। সব স্কুলেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের হুগলি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশিস বসু বলেন, কেউ অসুস্থতা বা পারিবারিক সমস্যার কারণে পরীক্ষা না দিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু পর্ষদ সাফল্যের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের সুবিধায় সবরকম ব্যবস্থা করেছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই চলছে। পরীক্ষার কয়েকদিন আগেও পোর্টাল খোলা হয়েছিল।