Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুবিধা পেয়েও বহু সংখ্যক পড়ুয়া বসেনি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে, পরীক্ষার পর তদন্ত শুরু উদ্বিগ্ন শিক্ষাদপ্তরের

সুবিধা পেয়েও বহু সংখ্যক পড়ুয়া বসেনি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে, পরীক্ষার পর তদন্ত শুরু উদ্বিগ্ন শিক্ষাদপ্তরের
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১০:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পরও বহু ছাত্রছাত্রী কেন মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসল না তা জানতে ময়দানে নামছে শিক্ষাদপ্তর। প্রয়োজনে দপ্তরের কর্মীরা ওই ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি যাবেন। ড্রপআউট কমাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিকে ৬৯১জন ছাত্রছাত্রী অনুপস্থিত রয়েছে। তারমধ্যে ৫৮৭জন ছাত্রী রয়েছে। মাধ্যমিকেও কয়েকশো ছাত্রী গরহাজির। এক আধিকারিক বলেন, কন্যাশ্রীর সুবিধা পাওয়ার পরও কেন ছাত্রীরা ১৮ বছরের আগে বিয়ে করছে তা জানতে সমীক্ষা করা হবে। তাদের বাড়ির লোকজনদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। অনেক সময় অবশ্য অনেকে বাড়ির অমতে গিয়েও বিয়ে করে। তবে যেসব বাবা এবং মা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তাঁদের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হবে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কন্যাশ্রী ছাড়াও রূপশ্রী প্রকল্পেও ছাত্রীরা টাকা পায়। তবে ১৮বছরের কমবয়স হলে তারা এই সুবিধা পাবে না। এই প্রকল্পের সুবিধা না নিয়েও অনেকে বিয়ে করছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষাদপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, পড়ুয়ারা ট্যাব বা কন্যাশ্রীর টাকা পাওয়ার পরও পরীক্ষা দিচ্ছে না। এটা উদ্বেগের বিষয়। তবে হাল ছাড়া যাবে না। শিক্ষাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলবেন। বুঝিয়ে তাদের আবার শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে আনা হবে। মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ করলে তাদের ক্ষতি। সেটা বুঝিয়ে বলা হবে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ড্রপআউট কমাতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কোনও ছাত্র বা ছাত্রী ক্লাসে হঠাৎ করেই আসা বন্ধ করে দিলে তাদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আর এক আধিকারিক বলেন, দু’টি কারণে ড্রপআউট বাড়ে বলে অতীতের রেকর্ড ঘেঁটে জানা গিয়েছে। ছাত্রদের ক্ষেত্রে অনেকে ভিনরাজ্যে কাজে চলে যায়। কেউ কেউ অবশ্য নিজের এলাকাতেই কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। আয়ের দিশা দেখতে পাওয়ায় তাদের কাছে আর পড়াশোনার গুরুত্ব থাকে না। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে অবশ্য কারণ অন্য। তারা বিয়ের পিঁড়িকে অগ্রাধিকার দেয়। এবছর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে অনুপস্থিতির তালিকা প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়ে  দিয়েছে। এই প্রবণতা চলতে থাকলে আগামী দিনে অনুপস্থিতির সংখ্যা আরও বাড়বে। তাই আগে থেকেই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুপস্থিত পড়ুয়াদের ফের স্কুলে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস তারা শুরু করেছে। যেসব এলাকায় পড়ুয়াদের অনুপস্থিতির সংখ্যা বেশি সেগুলি আগে চিহ্নিত করা হবে। ওই এলাকাগুলিতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। প্রয়োজনে একাধিকবার শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীরা ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি যাবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ