Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আগুনে পুড়ল বহু দোকান, দীর্ঘক্ষণ ট্রেন বন্ধ থাকায় বিপাকে নিত্যযাত্রীরা

বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল শিয়ালদহ বজবজ শাখার সন্তোষপুর স্টেশনের বেশ কয়েকটি দোকান।

আগুনে পুড়ল বহু দোকান, দীর্ঘক্ষণ ট্রেন বন্ধ থাকায় বিপাকে নিত্যযাত্রীরা
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল শিয়ালদহ বজবজ শাখার সন্তোষপুর স্টেশনের বেশ কয়েকটি দোকান। মঙ্গলবার সকাল সওয়া সাতটা নাগাদ ঘটেছে এই ঘটনা। আগুনের লেলিহান শিখা স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ফুটব্রিজ সংলগ্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ওই শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিপাকে পড়েন বহু যাত্রী। বজবজ, নুঙ্গি থেকে আকড়া ও সন্তোষপুর স্টেশনে ভিড় জমে যায়। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেন বন্ধের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অটো ও অ্যাপ নির্ভর বাইক চালক তারাতলা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিন থেকে চারগুণ ভাড়া নিয়েছে। এদিকে, আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয় দমকলকে। রাস্তা ঘিঞ্জি হওয়ায় প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত গাড়ি আনা যায়নি। চারটি ইঞ্জিন বহুক্ষণ চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উল্লেখ্য, বছরখানেক আগেও এই সন্তোষপুরেই ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অগ্নিকাণ্ডের জেরে ভস্মীভূত হয়েছিল বেশ কিছু দোকান। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে আচমকা একটি দোকানে আগুন লাগে। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানেও। খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন সেখানে। ঘটনার সময় হাতে গোনা কয়েকটি দোকান খুললেও বাকিগুলি বন্ধ ছিল। তাই সব জিনিসপত্র বের করে নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো শুরু হয়। অনেকে জিনিসপত্র রেল লাইনে ফেলে দেন। খবর দেওয়া হয় দমকল এবং রবীন্দ্রনগর থানাকে। অভিযোগ, দমকল আধ ঘণ্টা দেরিতে এসে পৌঁছয়। আগুনের তীব্রতায় কাপড়, জুতো সহ ছ’ থেকে সাতটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুজোর মুখে দোকানিদের মাথায় হাত পড়েছে। দোকানগুলিতে দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল বলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

Advertisement

পৌঁনে দশটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। দমকলের এক আধিকারিক বলেন, স্টেশনে ঢোকার মুখ দখল করে প্রচুর বেআইনি দোকান রয়েছে। ফলে গাড়ি ঢুকতে পারেনি। শেষে রেলের লেভেল ক্রসিং দিয়ে গিয়ে অনেক দূর থেকে হোস পাইপে জল দিয়ে আগুন নেভানো হয়েছে। তাতে সময় লেগে গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর দমকল ও পুলিশের ধারণা, শট সার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে সওয়া সাতটা থেকে সাড়ে দশটা, মাঝেরহাট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করে।
যে দোকানগুলি পুড়েছে, সেগুলি রেলের জমিতে অবৈধভাবে গজিয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। কেন তাদের সরানো হচ্ছে না, প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীদের একাংশ। শিয়ালদহ ডিভিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, এদিনের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। অনেক স্টেশন দখলমুক্ত করা হয়েছে। সন্তোষপুর সহ আরও অনেক জায়গায় এই কাজ করা হবে। যেসব অভিযোগ আছে সেটা তদন্ত করে দেখা হবে। এদিকে, রেল পুলিশের কথায়, রাজনৈতিক ইন্ধন বন্ধ না হলে এই দখলদারদের সরানো সম্ভব নয়।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ