Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টাকা না থাকার ছুতো! সামেটিভ মূল্যায়নের মার্কশিটের প্রিন্ট আউটই দিচ্ছে না বহু স্কুল!

তহবিল সংকট। এই কারণ দেখিয়ে বহু স্কুল তৃতীয় সামেটিভ মূল্যায়নের (যা আগে ছিল বার্ষিক পরীক্ষা) মার্কশিটই দিচ্ছে না ছাত্রছাত্রীদের।

টাকা না থাকার ছুতো! সামেটিভ মূল্যায়নের  মার্কশিটের প্রিন্ট আউটই দিচ্ছে না বহু স্কুল!
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: তহবিল সংকট। এই কারণ দেখিয়ে বহু স্কুল তৃতীয় সামেটিভ মূল্যায়নের (যা আগে ছিল বার্ষিক পরীক্ষা) মার্কশিটই দিচ্ছে না ছাত্রছাত্রীদের। অনলাইনের মার্কস দেখিয়ে তা টুকে নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে অভিভাবক বা পড়ুয়াদের। কেউ কেউ আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত স্কুলের ‘নির্দেশ’ মেনে নিচ্ছেন বাধ্য হয়ে। তবে তাতে অসন্তোষ চাপা থাকছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টাল থেকে তিন পাতার মার্কশিট প্রিন্ট করতে হয়। সেই টাকা বাঁচাচ্ছে অনেক স্কুলই। আজ, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘স্টুডেন্টস উইক’। তাতেও কিছু খরচ রয়েছে। সেই কারণে স্কুলগুলির মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যদিও এই যুক্তি মানতে নারাজ বহু শিক্ষকই। তাঁরা বলছেন, স্কুলগুলি ছাত্রপিছু ন্যূনতম ২৪০ টাকা ভর্তি ফি নেয়। তাছাড়া, কম্পোজিট গ্রান্ট রয়েছে। পড়ুয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে ২৫ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা মেলে তাতে। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার মার্কশিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি দেওয়ার অর্থও স্কুলগুলি জোগাতে পারছে না, এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়। পালটা অপর অংশের শিক্ষকদের যুক্তি, সরকার এখন প্রাপ্য গ্রান্ট ভাগে ভাগে দিচ্ছে। তাই অন্যান্য খরচ সামলে এই প্রিন্ট আউট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। 

Advertisement


খরচ বাঁচাতে অন্য পন্থাও নিয়েছে বেশ কিছু স্কুল। এক পাতাতেই গোটা মার্কশিটটি নিয়ে এসেছে তারা। তাও প্রায় সরকারের দেওয়া হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ডের ধাঁচে। এমনকী, বিশেষ সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে পড়ুয়াদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং গুণাবলীর ঘরগুলিতেও গ্রেড বসিয়ে নেওয়া যাচ্ছে ইচ্ছেমতো। বছরের বিভিন্ন সময়ে একজন পড়ুয়ার নৈপুণ্য, আগ্রহের ক্ষেত্র এবং সার্বিক  পারফরম্যান্স আমূল বদলে যাচ্ছে। ইচ্ছেমতো গ্রেড বসালে যা হয়, তাই হচ্ছে। এতে খাটনি কমছে শিক্ষকদের। কিন্তু পড়ুয়াদের প্রকৃত মূল্যায়নের উদ্দেশ্যই সাধিত হচ্ছে না।


শুধু তাই নয়, বছরে মোট ন’টি ফর্মেটিভ মূল্যায়ন হওয়ার কথা। সেগুলিও বহু স্কুল না নিয়ে ইচ্ছেমতো নম্বর বসাচ্ছে। আবার কিছু স্কুল ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে মার্কস আপলোডই করছে না। এজেন্সিকে দিয়ে মার্কশিট তৈরি করিয়ে নিচ্ছে। প্রসঙ্গত, হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড স্কুলের কাছেই রাখার নিয়ম। কারণ, একজন পড়ুয়ার জন্য প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ওই কার্ডই থাকবে। তবে, পরীক্ষার মার্কস জানানোর জন্য যে পৃথক মার্কশিট প্রিন্ট করে দেওয়ার কথা, সেটাই দেওয়া হচ্ছে না।
অন্য সমস্যার কথাও বলছে শিক্ষক মহল। হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ডে একজন পড়ুয়াকে যেভাবে মূল্যায়নের কথা বলা আছে, তা বর্তমান ব্যবস্থায় শিক্ষকদের পক্ষে করা কঠিন। শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত ঠিক থাকলে তা করা সম্ভব। বহু স্কুলে তা নেই। তাছাড়া, ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে মার্কস আপলোডে সমস্যা হয়েছে একটা লম্বা সময় ধরে। এমনকী, কিউআর কোডেও ভুলভ্রান্তি থাকছিল। তাই এবার শেষের দিকে কিউআর কোডই তুলে দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এই পরিস্থিতি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ