সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: পুজোর আর বেশি দেরি নেই। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ছে। শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু এখনও মেদিনীপুর শহরের রাস্তা সংস্কারের কোনও উদ্যোগই নেই পুরসভার। শহরের প্রায় সব পাড়াতেই পুজোয় মাতেন বাসিন্দারা। থিমের পুজো দেখতে গ্রামঞ্চলের বাসিন্দারাও ভিড় জমান এই শহরে। পাড়ায় পাড়ায় ভিড় উপচে পড়ে। অথচ প্রায় প্রতিটি পাড়ার রাস্তাই এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে রয়েছে। পুজোর আগে সেই সব রাস্তা সংস্কার হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে বাসিন্দারা। এদিকে পুজোর আগে সব ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার হবে কিনা পুরসভাও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। শহরের খাপ্রেলবাজার, কোতবাজার, কর্ণেলগোলা, হবিবপুর, পাটনাবাজার, মির্জাবাজার, বক্সিবাজার, বার্জটাউন, রবীন্দ্রনগর, শেকপুরা
সহ সর্বত্রই রাস্তার অবস্থা খারাপ। কোথাও রাস্তায় বড় বড় গর্ত হয়ে গিয়েছে। কোথাও আবার রাস্তার পিচ উঠে পাথর বেরিয়ে গিয়েছে। রাস্তার ধার ভেঙে পরিসর ছোট হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও এলাকায় ছোটখাট দুর্ঘটনা লেগেই আছে। বড় বড় গর্তে বৃষ্টির জল জমে খানা ডোবায় পরিণত হয়েছে। এই সব এলাকায় থিমের পুজো দেখতে ভিড় জমান বাসিন্দারা। পুজোর আগে রাস্তা সংস্কার না হলে দুর্ভোগ থেকেই যাবে। বাসিন্দারা বলেন, অনেক রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কারই হয়নি। বর্ষায় রাস্তাগুলির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গিয়েছে। রাস্তা সংস্কারের কোনও উদ্যোগই নেই পুরসভার। এক বাসিন্দা সমর সেন বলেন, পুজোর আগে রাস্তা সংস্কার না হলে দুর্ভোগ পিছু ছাড়বেনা। আর এক বাসিন্দা শ্যামল গিরি বলেন, মনে হচ্ছে এবার ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়েই ঠাকুর দেখতে যেতে হবে। পুরসভার অনেক আগেই ভাবা উচিত ছিল। পুরসভার পূর্ত দপ্তরের সিআইসি সদস্য সৌরভ বসু বলেন, এবারে বেশি বৃষ্টি হওয়ায় অনেক রাস্তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বৃষ্টির জন্য কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। সব না হলেও কিছু রাস্তা পুজোর আগে সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টাকাও বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। টেন্ডার করে কাজের বরাতও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝেই বৃষ্টি চলে আসায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবুও ঠিকাদারদের পুজোর আগে কিছু রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছ। আর কিছু রাস্তা সংস্কারের জন্য আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে। পরে সেই সব রাস্তা গুলি সংস্কার করা হবে। -নিজস্ব চিত্র