Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘লোন অ্যাপে’র ফাঁদে পড়ে প্রতারিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বহু বাসিন্দা

বাড়ি বসে সহজে লোনের প্রস্তাব দিয়ে সাইবার প্রতারণার নয়া ফাঁদ ‘লোন অ্যাপ’। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

‘লোন অ্যাপে’র ফাঁদে পড়ে প্রতারিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বহু বাসিন্দা
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাড়ি বসে সহজে লোনের প্রস্তাব দিয়ে সাইবার প্রতারণার নয়া ফাঁদ ‘লোন অ্যাপ’। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। ব্যাঙ্ক থেকে লোন পেতে নানা রকম শর্ত ও ঝক্কি থাকে। সেইসব শর্ত ও ঝক্কি এড়াতে গিয়ে অনেকেই বাড়ি বসে সহজে লোন পাওয়ার টোপ গিলে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আগ্রহীদের অ্যাপ ডাউনলোড করতে হয়। ডাউনলোড করার পর পর্যায়ক্রমে ‘অ্যালাউ’-এ ক্লিক করে যেতে হয়। তাতে‌ই মোবাইলের কন্ট্যাক্ট লিস্ট, গ্যালারিতে থাকা যাবতীয় ছবি এবং তথ্য অজান্তেই সাইবার প্রতারকদের হাতে চলে যাচ্ছে। লোন মঞ্জুর এবং সুদ সমেত পরিশোধের পরই শুরু হচ্ছে ব্ল্যাকমেল। মোটা টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রতারণার শিকার হয়ে লোকজন তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় ছুটছেন। রাজস্থান থেকে এই প্রতারণা চক্র পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, পাকিস্তানের নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কল আসছে।

Advertisement

কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র মহম্মদ সাদাব, হলদিয়ার দুর্গাচক থানার কুমারচকের রাজেশ ধেরির স্ত্রী শম্পা করণ ধেরি সহ আরও ঩বেশ কয়েকজন সম্প্রতি ‘লোন অ্যাপ’ প্রতারণার শিকার। তাঁরা এনিয়ে তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হন। এই চক্রের খপ্পড়ে পড়ে হুগলির একজন আত্মঘাতী হয়েছেন বলেও খবর। নথিভুক্ত বেশকিছু লোন অ্যাপ আছে। তাদের নামের সঙ্গে মিল রেখে সাইবার প্রতারকরা লোন অ্যাপের নাম রাখছে। সেইসব অ্যাপ পাঠিয়ে সহজে লোন পাওয়ার টোপ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য ওই অ্যাপ ডাউনলোড করতে হচ্ছে। চার হাজার টাকা লোন নিতে এক সপ্তাহ বাদে ৪৩০০টাকা দিতে হচ্ছে। ছ’হাজার টাকা নিতে এক সপ্তাহ বাদে ৬৫০০টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। এপর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু, লোন শোধ করে দেওয়ার পর আচমকা ২০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। দাবিমতো টাকা না দিলে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে।
তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার অফিসাররা বলছেন, অ্যাপ ডাউনলোড করে বারবার ‘অ্যালাউ’ অপশনে ক্লিক করার ফলে মোবাইলের অ্যাকসেস সাইবার প্রতারকদের কাছে চলে যাচ্ছে। কন্ট্যাক্ট লিস্ট থেকে শুরু করে ফোনের গ্যালারির যাবতীয় ফটো নিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। সেইসব ফটো সুপার ইম্পোজ করে কন্ট্যাক্ট লিস্ট ধরে কাছের লোকজনের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এভাবেই ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। সম্প্রতি এরকম পরপর বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ টাকা না দিয়ে সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে নালিশ করছেন।
রাজস্থান থেকে লোন অ্যাপের প্রতারণা চক্র চালানো হচ্ছে বলে খবর। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, পাকিস্তানের আইএসডি কোড ‘+৯২’ সহ ফোন নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কল আসছে। এনিয়ে মানুষজনকে সতর্ক থাকতে হবে বলে জানাচ্ছে তমলুক সাইবার ক্রা‌ইম থানার পুলিশ। থানার আইসি পার্থসারথী হালদার বলেন, এধরনের ঘটনা থেকে সাবধান থাকতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ