Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোর আগে গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কায় বহু বাসিন্দা, সামশেরগঞ্জে ফের ভাঙনের আতঙ্ক

আগমনি না হতেই বিসর্জনের সুর সামশেরগঞ্জে। বুধবার সকালে উত্তর চাচণ্ডে একটি পাকা বাড়ি তলিয়ে গেল নদীগর্ভে।

পুজোর আগে গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কায় বহু বাসিন্দা, সামশেরগঞ্জে ফের ভাঙনের আতঙ্ক
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: আগমনি না হতেই বিসর্জনের সুর সামশেরগঞ্জে। বুধবার সকালে উত্তর চাচণ্ডে একটি পাকা বাড়ি তলিয়ে গেল নদীগর্ভে। চেয়ে চেয়ে দেখলেন বাসিন্দারা। ভাঙন আতঙ্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না সামশেরগঞ্জবাসীর। কার্যত দিশেহারা তাঁরা। বিগত কয়েকবছর থেকে ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসেছে বহু পরিবার। আরও বেশ কয়েকটি বাড়ি খাদের কিনারে ঝুলছে। সেগুলোও যে কোনও মুহূর্তে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এদিকে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ভাঙনের দোসর হয়েছে গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি। গত তিনদিনে নদীতে কয়েক ফুট জল বাড়ায় আতঙ্কিত ভুক্তভোগী মানুষ। ঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন মানুষ। স্থানীয় যুবকরা নানাভাবে তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িতে দিচ্ছেন। সামশেরগঞ্জের বিডিও সুজিতচন্দ্র লোধ বলেন, কয়েকটি নদী লাগোয়া বাড়ি রয়েছে। এদিন একটি বাড়ি পড়ে যায়। বাকি পরিবারগুলোকে সরে যেতে বলা হয়েছে। ইতিপূর্বেই এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, বর্ষা বিদায় নেওয়ায় গঙ্গা জলস্তরও কমতে শুরু করে। নদীতে জল কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি বোধ করেন এলাকাবাসী। এরই মাঝে গত দিন তিনেক ধরে ফের নদীতে জলস্তর বাড়তে থাকে। এদিন সকাল ন’টা নাগাদ নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কয়েক মিটার জমি তলিয়ে যায়। একটি তাল সহ আরও কয়েকটি বড় গাছ নিমেষে তলিয়ে যায়। একটি ঢালাই রাস্তার একাংশ নদীগর্ভে চলে যায়। ঘরের জিনিসপত্র সরানোর আগেই জয়দেব সরকারের বাড়ির একাংশ নদীতে তলিয়ে যায়। কিছুক্ষণ বাদ পুরো বাড়িটিই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। জয়দেববাবু এলাকায় এটাসেটা বিক্রি করে একতলা একটি পাকা বাড়ি তৈরি করেছিলেন। কোনওমতে সংসার চলত তাঁর। মাথাগোঁজার আশ্রয়টুকু হারিয়ে পথে বসেছে পরিবারটি। অনামিকা সরকার, বিষ্ণু সরকার ও অর্জুন সরকার সহ আরও কয়েকজনের বাড়ি নদীর উপর ঝুলছে। আতঙ্কে তাঁরাও ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন। আর কয়েকদিন পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। দেবীর বোধনের আগেই জয়দেব, অনামিকা ও বিষ্ণু সরকারদের জীবনে যেন বিসর্জনের সুর ধ্বনিত হচ্ছে। জয়দেববাবু বলেন, সব নদীতে চলে গেল, এই অবস্থায় কোথায় যাব? কোথায় থাকব?
উত্তর চাচণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফেরদৌসি খাতুন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ