নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: রাস্তায় বিদ্যুৎতের আলো নেই।একাধিক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সেকারণেই গ্ৰামে সন্ধ্যে নামলেই হাতির পাল হানা দিচ্ছে। ত্রিপলের ছাউনি, ছিটেবেড়া ঘরে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে ঝাড়গ্রাম ব্লকের ছোট টিয়াকাটি গ্ৰামের লোধা শবরাদের। বাঁধগড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কমল দলাই বলেন, গ্ৰামে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো রয়েছে।যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তায় বিদ্যুতের আলো দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ঝাড়গ্রামের কলাবনীর জঙ্গলঘেরা গ্ৰাম ছোট টিয়াকাটি। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডোবে গ্রাম। গ্ৰামের রাস্তায় বিদ্যুৎতের আলো নেই। এই গ্ৰামে তিরিশ ঘর লোধা-শবরের বাস। জঙ্গলে শুকনো কাঠ বিক্রি করে লোধা শবররা কোনওরকমে সংসার চালান। বাসিন্দারা টিয়াকটি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎতের বিল জমা দিতে পারেননি মানুষ। তার জেরে বণ্টন সংস্থার তরফে আইন মেনে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ত্রিপলের ছাউনি ও ছিটে বেড়া দেওয়া ঘরও বাদ যায়নি।জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা শুকনো কাঠ বেচে লোধা, শবররা বিদ্যুতেরবকেয়া বিল জমা করেছেন। মহাজনদের কাছে বাধ্য হয়ে টাকা ধার করতে হচ্ছে তাঁদের।খাবারের জন্য ভরসা এখন রেশনের চাল ও আটা। অনেকের কেরোসিন কেনারও সামর্থ্য নেই। ঘরে মোমবাতি জ্বালিয়েই রাত কাটাতে হচ্ছে। হাতির হানার ভয়ে সন্ধ্যে হলেই বাসিন্দারা গৃহবন্দি হয়ে পড়ছেন।
গ্ৰামের বাসিন্দা ফুলতলা নায়েক বলেন,স্বামী নেই।ছোট ছেলেকে নিয়ে ঘরে থাকি। জঙ্গল থেকে শুকনো কাঠ বিক্রি করে যা রোজগার হয়, তাতেই দু’টো পেট চলে। যা রোজগার করি তাতে কিস্তিতেও বিদ্যুতের বিলের টাকা জমা করার সামর্থ্য নেই।
আবার আর এক বাসিন্দা ফুজন ভুক্তা বলেন,বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে পারিনি। ঘরে লাইন কেটে দিয়ে গিয়েছে। মোমবাতি জ্বালিয়ে মেয়ে ও নাতনিকে নিয়েকষ্ট করে থাকি। আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হচ্ছে।
গ্ৰামের অপর বাসিন্দা প্রধান মল্লিকের কথায়, পোষা দুটো শূকর ওজঙ্গল থেকে আনা শুকনো কাঠ বিক্রি করে যা পেয়েছিলাম, সেই টাকায় বিদ্যুতের বিল জমা করেছি। মহাজনের কাছে যে টাকা ধার করেছিলাম তা এখনও শোধ করতে পারিনি।যাঁরা আমাদের গ্রামে বিলের টাকা দিতে পারেনি, তাঁদের অন্ধকার ঘরে রাত কাটাতে হচ্ছে।
ঝাড়গ্রাম জেলা বিদ্যুৎ দপ্তরের রিজিওন্যাল ম্যানেজার প্রদীপকুমার সামন্ত বলেন, নিয়ম মেনেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।হাসির আলো প্রকল্পে অনেকেই বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন।এক্ষেত্রে কিস্তিতে বিলের টাকা শোধের সুবিধা রয়েছে। নিয়মের বাইরে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।