নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তৃণমূল ইতিমধ্যেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। বিজেপি এবং বামেরাও বেশিরভাগ আসনেই প্রার্থীর নাম জানিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে হাত শিবিরে কার্যত ছন্নছাড়া দশা। এআইসিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির কোনও বৈঠক নেই। যোগ্য প্রার্থীর খোঁজ চলছে। দলের প্রবীণ অনেকে দাঁড়াতে আগ্রহী নন।
এবার বামেদের সঙ্গে জোটও নেই। বাংলার নেতাদের বেশিরভাগের সুপারিশ মতো ‘একলা চলো’ নীতি নিয়েছেন রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খাড়্গেরা। কিন্তু ২৯৪ আসনে প্রার্থী জোগাড় করাই এখন কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই কারণেই প্রার্থী বাছাইয়ের বৈঠকে বিলম্ব বলে এআইসিসি সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে। দলের একটি বিশেষ সূত্রের দাবি, টিকিট না পাওয়া তৃণমূলের ১২ জন বিদায়ী বিধায়ক কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তৃণমূলের টিকিট না পাওয়া ৭৪ বিদায়ী বিধায়ক এবং বিজেপি’রও বিক্ষুব্ধরা যদি আগ্রহ দেখান, জেতার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তাঁদের টিকিট দিতে কংগ্রেসের আপত্তি নেই। কিন্তু ভিন্নমত অধীররঞ্জন চৌধুরীর। তাঁর মন্তব্য, কংগ্রেস এখনো এমন দুর্বল হয়নি যে অন্য দল থেকে এলেই টিকিট দিতে হবে।
যদিও হাইকমান্ড চাইছে, জয়ের সম্ভাবনা থাকলে ভোটের সময় নীতি আঁকড়ে বসে থাকলে চলে না। তাই দলের নেতা-কর্মীরা অগ্রাধিকার পেলেও ভিন দলের টিকিট না পাওয়া বিদায়ী বিধায়ক বা প্রত্যাশীরা আগ্রহী হলে আপত্তি করা হবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও একপ্রকার নিশ্চিত, বহরমপুর থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর ঘনিষ্ট তথা মুর্শিদাবাদের জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী দাঁড়াতে পারেন জেলার অন্য কেনো আসনে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার মালদহের কোনো আসন থেকে প্রার্থী হতে চান। মৌসম বেনজির নুরকেও প্রার্থী করা হবে। কংগ্রেস এবার শূন্যের গেরো কাটাতে মরিয়া। কেননা, গতবার বামেদের সঙ্গে জোট করে ৯২ আসনে লড়ে একজনও জেতেননি। উল্টে ৭৯ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।