Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আচমকা ডিভিসির ছাড়া জলে দামোদরে ভাসল বহু জাল, ক্ষতিতে মৎস্যজীবীরা

আগাম সতর্কতা ছাড়াই ডিভিসির ছাড়া জলে সোনামুখীতে দামোদরে ভেসে গেল মাছ ধরার কয়েকশো জাল। ক্ষতির মুখে নদ তীরবর্তী গ্রামের শতাধিক মৎস্যজীবী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে দামোদরে হঠাৎ করে প্রচুর পরিমাণে জল ছাড়া হয়।

আচমকা ডিভিসির ছাড়া জলে দামোদরে ভাসল বহু জাল, ক্ষতিতে  মৎস্যজীবীরা
  • ১৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: আগাম সতর্কতা ছাড়াই ডিভিসির ছাড়া জলে সোনামুখীতে দামোদরে ভেসে গেল মাছ ধরার কয়েকশো জাল। ক্ষতির মুখে নদ তীরবর্তী গ্রামের শতাধিক মৎস্যজীবী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে দামোদরে হঠাৎ করে প্রচুর পরিমাণে জল ছাড়া হয়। তাতেই মাছ ধরার জন্য পেতে রাখা কয়েকশো জাল ভেসে চলে যায়। মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, অন্য সময় জল ছাড়ার আগে পঞ্চায়েত থেকে মাইকিং করা হয়। তখন আগাম নদ থেকে জাল তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু, এবার তাঁদের অজান্তেই প্রচুর পরিমাণ জল ছাড়ার ফলে নদে পেতে রাখা প্রায় সমস্ত জাল ভাসিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে। এই অবস্থায় তাঁরা ভীষণ বিপাকে পড়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দামোদরে মাছ ধরেই তাঁদের সংসার চলে। এরপরে তাঁরা কীভাবে জাল কিনবেন, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন।

Advertisement

বাঁকুড়া জেলা মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক কিরণলাল দাস বলেন, আমাদের দপ্তর থেকে মাঝে মধ্যে মৎস্যজীবীদের জাল দেওয়া হয়। কিন্তু, চলতি বছরের জন্য আগে থেকেই মৎস্যজীবীর নাম ঠিক হয়ে গিয়েছে। দরখাস্ত করলে আগামী দিনে তা বিবেচনা করা হবে। তবে এধরনের বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীরা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরে সাহায্যের জন্য আবেদন করতে পারেন। 
ভাগলুই গ্রামের বাসিন্দা শম্ভু বাগদি বলেন, আমার জমিজমা নেই। মাছ ধরেই সংসার চালাই।  অনেক কষ্ট করে ধাপে ধাপে ৪৫টি জাল কিনেছিলাম। রোজ বিকেলে নদের জলে পেতে রাখতাম। সকালে জাল তুলে যা মাছ পেতাম, তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আয় হতো। সোমবার রাত ৮টা নাগাদ হঠাৎ করে নদে জল বেড়ে যায়। সেই খবর পেয়ে নদে গিয়ে প্রাণপণ দিয়ে জাল গোটানোর চেষ্টা করি। কিন্তু, মাত্র দু’টি জাল তুলতে সক্ষম হয়েছি। বাকি জাল জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। এবার কীভাবে সংসার চলবে বুঝতে পারছি না। জাল কেনার জন্য সরকারের থেকে সাহায্য পেলে খুব ভালো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল মণ্ডল বলেন, দামোদরের তীরবর্তী ভাগলুই, বেশিয়া, অমৃৎপাড়া, পতশপুর, করিমপুর, নিত্যানন্দপুর প্রভৃতি গ্রামের শতাধিক মৎস্যজীবী রয়েছেন। তাঁদের কারও ৩০টি, কারও ৪০টি আবার কারও ৫০টি জাল ছিল। আগাম না জানিয়ে ডিভিসি জল ছাড়ার ফলে মৎস্যজীবীদের ভীষণ ক্ষতি হয়ে গেল।     
ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা বলেন, দামোদরে জল ছাড়লে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে মাইকিং করা হয়। কিন্তু, এবার তা করা হয়নি। সেই জন্য আমরা রোজকার মতো বিকেলে নদে জাল পেতে নিশ্চিন্তে বাড়ি চলে আসি। কিন্তু, রাত ৮টা নাগাদ হঠাৎ জলের আওয়াজ শুনে নদে ছুটে যাই। নদের তীরের দিকে থাকা কিছু জাল উদ্ধার করতে পারলেও বেশিরভাগ জাল জলের তোড়ে ভেসে যায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ