Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

মস্কোর তেল কেনা স্থগিত রেখেছে বহু ভারতীয় সংস্থা, দাবি রিপোর্টে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে অনিশ্চয়তা!

চলতি বছরের মধ্যে রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা কমিয়ে দেবে ভারত। সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরইমধ্যে মস্কোর প্রথমসারির জ্বালানি কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আমেরিকা।

মস্কোর তেল কেনা স্থগিত রেখেছে বহু ভারতীয় সংস্থা, দাবি রিপোর্টে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে অনিশ্চয়তা!
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: চলতি বছরের মধ্যে রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা কমিয়ে দেবে ভারত। সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরইমধ্যে মস্কোর প্রথমসারির জ্বালানি কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আমেরিকা। এই আবহে ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে ভারতীয় তেল পরিশোধন সংস্থাগুলি। সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, রুশ কোম্পানিগুলির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি। ফলে তেলের নতুন অর্ডার আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সংস্থাগুলি। 

Advertisement

সূত্রের খবর, তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে অশোধিত তেল সংগ্রহ করছে বিভিন্ন সংস্থা। ইতিমধ্যে নতুন টেন্ডার ডেকেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন। সংস্থার ডিরেক্টর (ফিনান্স) অনুজ জৈন বলেন, ‘রুশ তেলের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। কিছু সংস্থার উপর তা চাপানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা রুশ সংস্থা সঠিক দামে তেল দিলে আমরা নিশ্চয়ই কিনব।’ অন্যদিকে স্পট মার্কেটে তেল কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি পরিশোধন সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ২০২২ সালের পর ভারতে সবথেকে বেশি রুশ তেল ক্রয় করেছে রিলায়েন্স। তারা যাবতীয় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মেনেই কাজ চালানোর কথা জানিয়েছে।  
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কোর বিভিন্ন তেল সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত সপ্তাহে রাশিয়ার দুই বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী সংস্থা লুকঅয়েল ও রসনেফ্টের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় আমেরিকাও। এর ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে সমস্যা। কোন পথে তেল সরবরাহ করা হবে? দামই বা কীভাবে মেটানো হবে? দু’টি প্রশ্নের উত্তর এখনও পায়নি ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি। এব্যাপারে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘নিষিদ্ধ সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের থেকে অনেকেই পণ্য নিতে চাইছে না। লেনদেনে সমস্যা থাকলে কেউই ঝুঁকি নেবে না। কারণ নিষিদ্ধ কোম্পানির সঙ্গে কোনও আর্থিক লেনদেন করবে না ব্যাংক।’ অন্য এক আধিকারিক বলেছেন, ‘সরকার ও সরবরাহকারীদের থেকে স্পষ্ট বার্তা না পাওয়া পর্যন্ত নতুন অর্ডার নেওয়া হবে না।’
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ন’মাসে রাশিয়া থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৯ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনেছে ভারত। যা মস্কোর মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে নিষেধাজ্ঞার আবহে সরবরাহের গতি অনেকটাই কমেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারতে রুশ তেল আমদানি গত বছরের তুলনায় ৮.৪ শতাংশ কমেছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল আমদানি বেড়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ