Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬

কুকি ও নাগা গোষ্ঠীার সংঘর্ষে পুড়ে ছাই বহু ঘরবাড়ি, চাঞ্চল্য

এক বছর রাষ্ট্রপতি শাসনের পর ফের হিংসাদীর্ণ মণিপুরে শপথ নিয়েছে বিজেপি সরকারই। কিন্তু মণিপুরে শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ ডবল ইঞ্জিন সরকার।

কুকি ও নাগা গোষ্ঠীার সংঘর্ষে পুড়ে ছাই বহু ঘরবাড়ি, চাঞ্চল্য
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: এক বছর রাষ্ট্রপতি শাসনের পর ফের হিংসাদীর্ণ মণিপুরে শপথ নিয়েছে বিজেপি সরকারই। কিন্তু মণিপুরে শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ ডবল ইঞ্জিন সরকার। এবার নতুন করে অশান্ত ঊখরুল জেলা। রবিবার রাতে সেখানকার লিটন এলাকায় কুকি ও নাগা গোষ্ঠীর সংঘর্ষে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বহু ঘরবাড়ি।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ জারি করেছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সমস্ত গোষ্ঠীর কাছে সংযম ও শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন।  লিটনের ঘটনায় আহতের দেখতে রিমস হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই সংঘর্ষ। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সন্ধ্যায়।  লিটন সারেইখং-এ মদ্যপ অবস্থায় বচসার জেরে স্টার্লিং নামে  তাংখুল নাগা গোষ্ঠীর এক যুবককে মারধর করা হয়। অভিযোগ ওঠে ছিল কুকি গোষ্ঠীর যুবকদের বিরুদ্ধে। রবিবার বিকেলে লিটন এলাকার বাসিন্দারা কুকি গ্রাম প্রধানের কাছে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাদের সামনে আনার দাবি জানায়। এর জেরে উত্তেজনা দেখা দেয়। রাতের দিকে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। জারি হয় কার্ফু। কিন্তু তারই মধ্যে বিপুল সংখ্যক কুকি গোষ্ঠীর লোকজন লিটন গ্রামের ২৫টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। কুকি গোষ্ঠীর দুটি বাড়িও পুড়েছে বলে অভিযোগ। গোটা গ্রাম জুড়ে দফায় দফায় গুলির আওয়াজও শোনা যায়। ফলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘটনার ভিডিয়োতে একদল সশস্ত্র জঙ্গিকে একের পর এক বাড়িঘর, গাড়িতে আগুন দিতে দেখা গিয়েছে।  অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে শূন্যে গুলিও ছোড়া হয়। জেলা শাসক আশিষ দাস জানিয়েছেন, ‘রবিবার রাতে দুষ্কৃতীরা একাধিক বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।’ উখরুল জেলা সহ পাহাড়ি জেলাগুলি গত কয়েক দশকে কুকি-নাগা গোষ্ঠীর সংঘর্ষের একাধিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে। এবার নতুন করে সংঘর্ষে সিঁদুরে মেঘ দেখছে উভয় গোষ্ঠীর মানুষ। সোমবার সকাল থেকেই স্থানীয় মানুষদের বাড়িঘর গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে। সকলের চোখেমুখে একটাই প্রশ্ন, আর কবে শান্তি ফিরবে?

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ