নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: সিটংকাণ্ডের পর হোমস্টেগুলির অবস্থা নিয়ে দার্জিলিং ও কালিম্পং প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। একইসঙ্গে তিনি বলেন, শীঘ্রই নতুন হোমস্টে পলিসি প্রকাশ করা হবে। এবারের পলিসিতে হোমস্টের রুম সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বহু হোমস্টের রেজিস্ট্রেশন নেই। সেগুলিতে অনেকে পরিচয় গোপন করে থাকছেন। এনিয়ে পর্যটনমন্ত্রী রীতিমতো উদ্বিগ্ন। মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি পুলিশ ও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে শীঘ্রই হোমস্টের রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা অনলাইনে করা হবে। এজন্য পরিকাঠামো উন্নয়ন করার কাজ চলছে।
কয়েকদিন আগে কার্শিয়াংয়ের সিটংয়ের একটি হোমস্টেতে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সেখানে কেরোসিন তেল দিয়ে বার-বি-কিউয়ে আঁচ বাড়ানোর সময় আগুন ছিটকে ঝলসে যান উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরের এক নববধূ। ওই বধূ এখনও চিকিৎসাধীন। এই অবস্থায় পাহাড়ের হোমস্টেগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এদিন পর্যটনমন্ত্রী বলেন, হোমস্টেগুলি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এজন্য দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের জেলাশাসকদের ‘গ্রাউন্ড জিরো’ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করে দাখিল করতে বলা হয়েছে। সেগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে হোমস্টের সংখ্যা অসংখ্য। পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের জীবিকার অন্যতম পথ হোমস্টে। কিন্তু, বিশাল অংশের হোমস্টের রেজিস্ট্রেশন নেই। এনিয়ে উদ্বিগ্ন পর্যটনমন্ত্রী বলেন, কালিম্পংয়ে হোমস্টের ৮০ শতাংশ রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। কিন্তু, দার্জিলিংয়ে সিংহভাগ হোমস্টের তা নেই। নিরাপত্তার নিরিখে এটা উদ্বেগের বিষয়। অনেকে ওইসব হোমস্টেতে পরিচয় গোপন করে থাকছেন বলে শুনছি। রেজিস্টার হোমস্টেতে নিয়ম মেনে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু, বিনা রেজিস্ট্রেশনের হোমস্টেতে সেসব হয় না। প্রশাসনের পাশাপাশি, পুলিশকে বিষয়টি দেখতে বলছি। পার্বত্য ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী বিশাল লামার সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।
একইসঙ্গে নয়া হোমস্টে পলিসি আনার কথাও জানান পর্যটনমন্ত্রী। বলেন, আগে হোমস্টেতে ছ’টি রুম থাকত। বর্তমানে তা বাড়িয়ে আটটি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন হোমস্টের পলিসি মন্ত্রিসভায় পেশ করা হয়েছে। এরপর অনলাইনে হোমস্টেগুলির রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হবে।