নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ০৩০৪৬ হাওড়া হোলি স্পেশাল ট্রেন হাওড়া স্টেশনে ঢোকার সময় ছিল বুধবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। ট্রেনটি হাওড়া স্টেশনে ঢুকেছে বিকাল ৪টে ০১ মিনিটে। ০৪৪১০ পাটনা হোলি স্পেশাল ট্রেন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় পাটনা ঢোকার কথা ছিল। ট্রেনটি দানাপুরে আসতেই সময় লেগে যায় সেদিন বিকাল ৩টে ৪২। পাটনা পর্যন্ত ট্রেনটি আসেনি। ০৮১৮৩ বক্সার হোলি স্পেশাল ট্রেনটি বুধবার বক্সারে ঢোকার কথা সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশনে আসে বিকাল ৪টে ৪২ মিনিটে। এই উদাহরণ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, হোলি স্পেশাল ট্রেনে চেপে যাত্রীরা কীভাবে দুর্ভোগে পড়ছেন। সময়ের থেকে অনেকটা দেরিতে ট্রেন চলায় উৎসব মুখর মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শুধু হোলি স্পেশালেই বিড়ম্বনা নয়, এনজেপি বা পুরী যাওয়ার ট্রেনের টিকিটেরও আকাল। টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখেও এখনও কোনও বড় পদক্ষেপ দেখা যায়নি রেলের পক্ষ থেকে।
বিষয়টি নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (ভারপ্রাপ্ত) দীপ্তিময় দত্ত বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ইন্টার লকিংয়ের কাজ চলার জন্য ট্রেন লেট হচ্ছে। পূর্ব রেলের এই ধরনের কাজ আমরা আগেই করে নিয়েছি। আমাদের এলাকার জন্য কোনও ট্রেন লেট হচ্ছে না। আমরা এনজেপির জন্য বিশেষ ট্রেন দিয়েছি। দক্ষিণ পূর্ব রেলের মূখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ওমপ্রকাশ বলেন, উৎসব স্পেশাল ট্রেনগুলির উপর আমরা সবসময় বাড়তি জোর দিয়ে থাকি। পুরী যাওয়ার টিকিটের চাহিদা ব্যাপক রয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রাথমিক গুরুত্বের তালিকায় রয়েছে হোলি স্পেশালগুলি।
শুক্রবার দোল, শনিবার হোলি। তারপর রবিবার। তিনদিনের টানা ছুটিকে সম্বল করেই ভ্রমণপিপাসু বাঙালি বেরিয়ে পড়তে চাইছেন। ব্যাগ গুটিয়ে পাহাড় কিংবা সমুদ্রের দিকে ছুটছেন। কিন্তু বাধ সেধেছে ট্রেনের টিকিট। পুরী যাওয়ার ট্রেনের রিজার্ভেশন তালিকা দেখলে ভিরমি খাওয়ার জোগাড়। বৃহস্পতিবার পুরী গরিব রথ ট্রেনের ওয়েটিং লিস্ট ২৪৫। হাওড়া পুরী সুপার ফাস্টের থার্ড এসির ওয়েটিং লিস্ট ১৭৬। জগন্নাথ এক্সপ্রেসের থার্ড এসির ওয়েটিং লিস্ট ৭৬। একই দিনে কালকাতা এনজেপি গরিব রথের ওয়েটিং লিস্ট ১৮৪, দার্জিলিং মেলের ওয়েটিং লিস্ট থার্ড এসিতে ১২২। শুধু বৃহস্পতিবারই নয়, শুক্রবার পুরী বন্দে ভারতের ওয়েটিং লিস্ট এখনই ৮০, শনিবারের ওয়েটিং লিস্ট ৭২। কোনও ট্রেনেই টিকিট নেই। তাই শুধুমাত্র টিকিটের অভাবে বহু বাঙালি নিজেদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছেন। অন্যদিকে হোলি স্পেশাল ট্রেন নিয়ে রেল গালভরা প্রচার করলেও সময়মতো ট্রেন চালাতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। তাই নিয়েও যাত্রীদের ক্ষোভ বাড়ছে।