Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুনর্ভবার বাঁধ ভেঙে ঘরছাড়া বহু পরিবার

স্বাধীনতা দিবসেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ল দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুক্রবার গঙ্গারামপুর ব্লকের নন্দনপুর এলাকায় পুনর্ভবা নদীর বাঁধ ভেঙে যায়।

পুনর্ভবার বাঁধ ভেঙে ঘরছাড়া বহু পরিবার
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ১৮:০৮
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তপন: স্বাধীনতা দিবসেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ল দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুক্রবার গঙ্গারামপুর ব্লকের নন্দনপুর এলাকায় পুনর্ভবা নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। সেদিকে প্রবল বেগে জল ঢুকে পড়ে তপন ব্লকের সুতোইল, কসবা বাটোর, মান্দাপাড়া ও গণাহার গ্রামগুলিতে। মুহূর্তে ডুবে যায় বাড়িঘর, জলমগ্ন হয় চাষের জমি। স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার দুপুর থেকেই এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করে। প্রথমে যেসব বাড়িতে বেশি জল প্রবেশ করে, সেই ২০টি পরিবারের মানুষজন বাধ্য হয়ে আশ্রয় নেন রাস্তার ধারে। পরে তপন ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় বাটোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে অবশ্য গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে এখনও রাস্তার ধারে রয়েছেন। বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিতে রাজি নন তাঁরা। শুক্রবার বিকেলে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দুর্গত এলাকায় যান দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিস সুপার চিন্ময় মিত্তাল, তপনের বিডিও তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৃষ্ণা বর্মন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রিপল, শুকনো খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন। শনিবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়হীন মানুষদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিদ্যালয় চত্বরে রান্না করে খিঁচুড়ি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় গ্রামবাসীদের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগই ছিল না। এলাকার বাসিন্দা অর্চনা হেমরম বলেন, শুক্রবার বাড়িতে জল ঢুকে মুহূর্তে সবকিছু ভেসে যায়। কোনও খাবার, চাল-গম কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। শুধু কিছু কাপড় আর গৃহপালিত পশু নিয়ে বেরিয়ে এসেছি। হাঁস, মুরগিও ভেসে যায়। প্রথমে রাস্তায় ছিলাম, পরে প্রশাসন স্কুলে নিয়ে যায়। সরকার থেকে দু’দিন ধরে খাবার দেওয়া হচ্ছে। মাটির বাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খুব বিপদের মধ্যে পড়েছি। প্রশাসন থাকার স্থায়ী ব্যবস্থা করুক।

Advertisement

শনিবার বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও বহু গ্রামে এখনও জল জমে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ধানের জমি পুরোপুরি জলের তলায়। বিপুল ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তপন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৃষ্ণা বর্মন বলেন, দুর্গত পরিবারগুলির পাশে থেকে সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি নিয়মিত রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাঁধ মেরামতির কাজও শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ