নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: স্নাতকোত্তরে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তলানিতে। বহু বিভাগ কার্যত ফাঁকা। চলতি বছরে ভর্তির জন্য তিনবার আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধির পরও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩টি বিভাগ মিলিয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা তিনশো পেরয়নি। বেশিরভাগ বিভাগে ৯০-১২০টি সিট থাকলেও একাধিক ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রী পাঁচজনেরও কম।
অভিযোগ, এমনিতেই হাতেগোনা ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে অনেকে আবার ভর্তির পরও এই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। কেন এমন হাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেক্ষেত্রে কি পড়াশোনার পরিবেশের অভাব নাকি নয়া হস্টেল চালু না হওয়ায় অন্য জেলা থেকে ছেলেমেয়েরা গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারাচ্ছেন, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা যে তলানিতে ঠেকেছে, তা স্বীকার করে নিয়ে উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য বলেন, নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির কারণে এখন পড়ুয়াদের অনেকেই স্নাতক স্তরে চার বছরের কোর্স করতে চাইছে। ফলে এবার স্নাতকোত্তরে পড়ুয়া ভর্তির সংখ্যা কমেছে।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, চলতি বছর স্নাতকোত্তরে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যে ২৫টি কলেজ রয়েছে, সেখান থেকে এসেছেন মাত্র তিনজন। বাইরের কলেজ থেকে এসেছেন চারজন। উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে পড়ুয়ার সংখ্যা ৬ জন। এছাড়াও কমার্স বিভাগে ৬ জন, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে ৬ জন, ইকোনমিক্সে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন। ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশনে ৪ জন ও লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৫ জন। সমাজবিজ্ঞানে মাত্র তিনজন পড়ুয়া। দর্শনে পড়ুয়া ৫ জন। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, অংকের মতো বিষয়েও পড়ুয়ার সংখ্যা মোটেই আশাপ্রদ নয়।
অভিযোগ, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আলাদা দু’টি হস্টেল তৈরির পরও দীর্ঘদিন ধরে তা ফেলে রাখা হয়েছে। পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকায় হস্টেল চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে পড়ুয়াদের মেসে থাকতে হচ্ছে। এনিয়ে উপচার্যের বক্তব্য, হস্টেল তৈরি হয়ে পড়ে থাকলেও আমরা এখনও হাতে পাইনি। পানীয় জলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের বিল্ডিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে লিফ্ট বিকল। ফলে চারতলা ভবনে সিঁড়ি ভেঙে ওঠানামা করতে হচ্ছে পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের। যা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। আজ, শনিবার কলকাতায় কর্মসমিতির বৈঠকে এসব নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। আজকের ইসি মিটিংয়ে সমাবর্তন নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। গত দশ বছর ধরে সমাবর্তন হয়নি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত ৩০ মার্চ ইসি মিটিংয়ে এনিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও দু’পক্ষের বাদানুবাদের জেরে ভেস্তে যায় ওই বৈঠক। উপাচার্যের দাবি, আগামী জানুয়ারি মাসে সমাবর্তন করার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।