নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: সকাল সাড়ে ১০টায় পুরসভার কর্মীদের অফিসে হাজির হওয়ার কথা। চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ঠিক সাড়ে ১০টায় অফিসে এসেই ঘরে ঘরে ঢুঁ মারতে শুরু করেন। কিন্তু অনেক ঘরেই তখন চেয়ার ফাঁকা। নির্দিষ্ট সময়েও গরহাজির বহু কর্মী। আর এসব দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ পুর চেয়ারম্যান রবি ঘোষ। নির্দিষ্ট সময়ে কাজের জায়গায় হাজির না থাকায় মঙ্গলবার অনুপস্থিত কর্মীদের ডেকেও পাঠান। মিলিয়ে দেখা হয় কতজন ছিলেন, আর কতজন সঠিক সময়ে পুরসভায় আসেননি।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম অনুসারে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস টাইম। ওই সময়ে অফিসে থাকাই দস্তুর। কিন্তু চেয়ারম্যান গ্যারাজ ঘর থেকে শুরু করে তিনতলা পুরভবনের সমস্ত ঘরে গিয়ে অনেক কর্মীরই এদিন দেখা পাননি। আর তারপরেই অনুপস্থিত ওই কর্মীদের তলব করেন তিনি।
চেয়ারম্যান বলেন, অনেকে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে ঢুকছেন না। এবার তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেব। যাঁরা আসেননি তাঁদের আমার সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠিয়েছি।
কোচবিহার মিউনিসিপ্যালিটি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অলোক রায় বলেন, সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমাদের অফিস টাইম। অনেকে সই করে বেরিয়ে যান। চেয়ারম্যান এদিন নিজে ঘুরে দেখেছেন। আশা করি, এবারে ওই কর্মীরা সর্তক হবেন।
১০টা বাজতেই পুরভবনে বিভিন্ন কাজ নিয়ে আসে মানুষজন। বিভিন্ন ধরনের শংসাপত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিল্ডিং প্ল্যান পাস করানো হোক কিংবা স্থানীয় কোনও সমস্যার কথা জানাতে লোকজন আসে। কোচবিহার পুরসভায় ২০টি ওয়ার্ড। সেখান থেকে যেমন বাসিন্দারা আসেন তেমনই শহরের বাইরে জেলা থেকেও নানা কাজে মানুষ এখানে আসে। তাই নিয়ম অনুসারে কর্মীদের সাড়ে ১০টার মধ্যেই অফিসে হাজির হওয়ার কথা। কিন্তু অনেক সময়ই তা হয় না। টেবিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীকে না পেয়ে অনেকে বহুক্ষণ অপেক্ষা করে বিরক্তিও প্রকাশ করেন।
এদিনও কার্যত এমনই দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সাড়ে ১০টায় নিজেই পুরসভার গ্যারাজের সামনে হাজির রবিবাবু। সেখান থেকে পূর্ত বিভাগ সহ পুরসভার সমস্ত বিভাগের কর্মীর উপস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সকাল সকাল চেয়ারম্যান দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন শুনে কর্মীদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেকেই হাজির না থাকায় ক্ষুব্ধ রবিবাবু পরিদর্শন শেষে নিজের চেম্বারে ফিরে যান। সেখানেই ওই কর্মীদের হাজির হতে বলেন। যাঁরা এদিন একেবারেই আসেননি তাঁদের আজ, বুধবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠানো হয়েছে।