Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহু জটিল রোগের চিকিৎসা হয় না পুরুলিয়া মেডিক্যালে

বহু জটিল রোগের চিকিৎসা হয় না পুরুলিয়া মেডিক্যালে
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বহু গুরুত্বপূর্ণ রোগের চিকিত্সা পরিষেবা মিলছে না পুরুলিয়ার দেবেন মহাত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালে এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।  পকেটের জোর থাকলে ভালো, না হলে সেই রোগকেই শরীরে ‘পুষতে’ হচ্ছে। তারপর একসময় ঢলে পড়তে হচ্ছে মৃত্যুর কোলে! তবে শুধু মেডিক্যালেই নয়, জেলার ঝালদা ও মানবাজার- এই দুই মহকুমায় আজও তৈরি হয়নি কোনও মহকুমা হাসপাতাল। দুই মহকুমায় নেই সিজারিয়ান সেকশনও। সব মিলিয়ে পুরুলিয়া জেলা জুড়েই স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল অবস্থা। 

Advertisement

মেডিক্যাল কলেজ সূত্রের খবর, হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, নিউরো মেডিসিন, নিউরো সার্জারি, অঙ্কোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির মতো পরিষেবা মেলে না। ওইসব বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। মেডিক্যালে প্রায় প্রতিদিনই হার্টের অসুখ নিয়ে বহু রোগী আসেন। আউটডোরে যৎসামান্য যে চিকিত্সা মেলার, শুধু সেটুকুই মেলে। হার্ট অ্যাটাক, অ্যাঞ্জাইনাপেক্টোরিস, হার্ট ব্লকেজের মতো দুরারোগ্য রোগের চিকিত্সার জন্য বাসিন্দাদের যেতে হয় ভিন রাজ্যের হাসপাতালে। ‘ক্যাথ ল্যাব’ না থাকায় অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম, অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি, পেসমেকার বসানো থেকে শুরু করে জটিল কার্ডিওথেরাসিক সার্জারিও হয় না। কিডনি স্টোনের রোগ নিয়েও প্রতিনিয়ত বহু মানুষ আসেন মেডিক্যালে। হয় না সেইসব রোগের চিকিত্সা। মেডিক্যালে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষাও চালু হয়নি আজও। 
জেলায় প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন পথ দুর্ঘটনা জখম হন বহু মানুষ। যদিও মেডিক্যালে ‘ট্রমা কেয়ার ইউনিট’ না থাকার কারণে দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীকে নিয়ে যেতে হয় অন্যত্র। এখানকার চিকিত্সকের অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নেন না। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার সুকমল বিষই মানছেন, সুপার স্পেশালিটি পরিষেবা নেই পুরুলিয়া মেডিক্যালে। এরজন্য বাসিন্দাদের সত্যিই হয়রানির শিকার হতে হয়। তাঁর দাবি, কয়েক বছর হল পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই এখনও সমস্ত পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি ধীরে ধীরে চালু হবে। তবে, এনিয়ে বাসিন্দাদের মনে ক্ষোভ জমছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে বহু রোগীকে। ট্যাঁকে জোর থাকলে কেউ রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন কলকাতা, ঝাড়খণ্ড কিংবা চেন্নাইয়ে। না থাকলে যা পরিণতি হওয়ার, তাই হচ্ছে! 
শুধু মেডিক্যাল কলেজ নয়, পুরুলিয়ার ঝালদা ও মানবাজার মহকুমায় একটিও বড় হাসপাতাল নেই। যার জেরে দুই মহকুমার ৯টি ব্লকের মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। দুই মহকুমার একটি ব্লক হাসপাতলেও প্রসূতিদের নূন্যতম সিজারের ব্যবস্থাটুকুও নেই! বাধ্য হয়ে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া দুই মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বহু মহিলাকেই প্রসবের জন্য সেই রাজ্যের কোনও নার্সিংহোমে ভর্তি হতে হচ্ছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে একদিনে যেমন খরচ হচ্ছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, তেমনই বেঘোরে যাচ্ছে প্রাণও! তবে, শুধু মাত্র প্রসবের ক্ষেত্রেই নয়, বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেও হয় ভরসা বাঁকুড়া মেডিক্যাল, নয়তো পড়শী রাজ্যের কোনও বেসরকারি হাসপাতাল! কবে এই দুর্ভোগ ঘুচবে? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।  জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, মহকুমা হাসপাতাল কবে হবে জানা নেই। তবে দুই মহকুমায় যাতে কম্প্রিহেনসিভ ইমারজেন্সি অবস্টেট্রিক সার্ভিস বা সিজারিয়ান সেকশন চালু করা যায়, তার জন্য আমরা রাজ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।  দেবেন মহাত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ