নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভোটের কাজে ওটিপি শেয়ার নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বুথ লেভেল অফিসারদের(বিএলও) নাম তোলার জন্য ওটিপি শেয়ার করতে হচ্ছে। কিন্তু, অনেক বিএলও ওটিপি দিতে নারাজ। এর ফলে ওই কাজ ধাক্কা খাচ্ছে। এদিকে, বৃহস্পতিবারই নির্বাচন কমিশন থেকে চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত বিএলও নিয়োগ এবং রেজিস্ট্রেশন পর্ব সেরে নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু, পূর্ব মেদিনীপুরে এখনও অনেক জায়গায় বিএলও নিয়োগ আটকে রয়েছে। তাছাড়া, ওটিপি শেয়ার করে তাঁদের নাম কমিশনের ওয়েবসাইটে তোলার সময় অনেকেই বেঁকে বসছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ওটিপি শেয়ার করলে ভবিষ্যতে বিপদ ঘটবে না তো? প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিএলওদের এনিয়ে বোঝানো হচ্ছে।
কারা বিএলও হতে পারবেন তানিয়ে চার রকমের ক্যাটাগরি বেঁধে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাতে ক্রমানুযায়ী ১.১, ১.২, ১.৩ এবং ১.৪ উল্লেখ করা হয়েছে। ১.১ লিস্টে রাখা হয়েছে রাজ্য সরকারের গ্রুপ-সি কর্মী কিংবা তার ঊর্ধ্বে কোনও সরকার কর্মী। এছাড়াও স্থায়ী শিক্ষকরা ওই লিস্টে থাকবেন। অবশ্যই তাঁদের সংশ্লিষ্ট বুথের বাসিন্দা হতে হবে। ১.২ লিস্টে রাখা হয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক। তাঁদের অবশ্যই বুথের বাসিন্দা হতে হবে। কোনও বুথে ১.১ এবং ১.২ ক্যাটাগরির কর্মী না থাকলে সেখানে ১.৩ ক্যাটাগরি অনুযায়ী বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগ করা হবে। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারি কর্মী, শিক্ষক, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক কিংবা আইসিডিএস কর্মীর কর্মস্থল সংশ্লিষ্ট বুথে হওয়া চাই। ১.১ এবং ১.২ ক্যাটাগরির বিএলও নিয়োগ করবেন জেলাশাসক। কিন্তু, ১.৩ ক্যাটাগরির বিএলও নিয়োগ করবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তাঁর অফিস থেকে অনুমোদন জোগাড় করতে হবে। পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় প্রতিটি বিধানসভা থেকে কিছু সংখ্যক ১.৩ ক্যাটাগরির বিএলও নিয়োগ করা হবে। তাঁদের নিয়োগের অনুমোদনের জন্য মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। কোনও বুথে ওই তিন ক্যাটাগরির কর্মী খুঁজে না পেলে সেখানে প্রশাসন মনোনীত ব্যক্তি বিএলও হতে পারবেন। তবে, তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
পূর্ব মেদিনীপুরের মোট ৪৪২০টি বুথে বিএলও নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি নিয়োগপ্রাপ্ত বিএলওদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সেই কাজ করার সময় প্রতিটি বিধানসভার ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার(ইআরও) বিএলওদের মোবাইলে ওটিপি পাঠাচ্ছেন। সেই ওটিপি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বিএলওদের রেজিস্ট্রেশন করাচ্ছেন। কিন্তু, এই কাজে জটিলতা বাড়ছে। বিএলওদের অনেকেই ওটিপি শেয়ারে রাজি নন। তাঁদের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে সমস্যা হলে তখন কোথায় যাব?
ময়না বিধানসভার ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বিপ্লব সরকার বলেন, আমাদের বিধানসভায় মোট ২৭৭টি বুথ। তারমধ্যে ৪০-৫০জন বিএলও-র রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। বিএলওদের একাংশ ওটিপি শেয়ার করতে চাইছেন না। এনিয়ে সমস্যা হচ্ছে। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার সুপ্রতীম আচার্য বলেন, যাঁরা আগে বিএলও ছিলেন আমরা তাঁদের রেজিস্ট্রেশন আগে করাচ্ছি। নতুনদের পরে করানো হবে। এখানে ওটিপি দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। সেটা প্রত্যেককে বোঝানো হচ্ছে।