অর্পণ সেনগুপ্ত ও প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যের দেওয়া স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য সহজেই ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেয়েছন প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার ছাত্রছাত্রী। আরও বহু পড়ুয়া তাঁদের স্বপ্ন সফল করতে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের আবেদন যাচাই করে অনুমোদনও দিয়ে দিয়েছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। এরপর ব্যাংকে গিয়ে ঋণ পাওয়ার পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানেই অভিযোগ, ব্যাংকে গিয়ে অদ্ভুত এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের বহু উপভোক্তাকে। এই কার্ডের বদলে কেন্দ্রের মোদি সরকারের ‘পিএম বিদ্যালক্ষ্মী’ প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে তাঁদের। একটি বা দু’টি নয়, এমন একাধিক অভিযোগ এসেছে বলেই খবর। এই অবস্থায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলছে, রাজ্যে ভোটের মুখে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিকে কাজে লাগিয়ে গেরুয়া শিবির ঘুরপথে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রচারের খেলায় নামেনি তো? আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা। সেই মতো ওই বছর ৩০ জুন এই প্রকল্প চালু করেন তিনি। তার তিন বছর পর, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর ‘পিএম বিদ্যালক্ষ্মী’ প্রকল্প চালু করে কেন্দ্র। বাংলার নিজস্ব প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঋণের সম্পূর্ণ গ্যারেন্টার থাকছে রাজ্য সরকারই। সুদও নামমাত্র। এই অবস্থায় মানুষের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় প্রকল্প চাপিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্পটিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডকে নকল করে শুরু। এখন সেটি আবার রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। মাথায় রাখতে হবে, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধাভোগী ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা লক্ষাধিক। তাই পিএম বিদ্যালক্ষ্মীকে কোনোভাবেই তারা আর জনপ্রিয় করতে পারবে না।’
স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা নিতে যাওয়া এক ছাত্র জানালেন, রাজ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী তিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে ‘পিএম বিদ্যালক্ষ্মী’র মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তার জন্য দ্রুত আবেদনও করতে বলা হয়। ইতিমধ্যে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৩,৯১৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের উপভোক্তা সংখ্যা ১ লক্ষ ছোঁয়ায় রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই অবস্থায় কেন্দ্রের প্রকল্পের সুবিধা নিতে জোর করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এমন ঘটনার অভিযোগ উড়িয়ে দেয়নি স্টেট লেভেল ব্যাংকার্স কমিটিও (এসএলবিসি)। এসএলবিসি’র কনভেনর বলবীর সিংয়ের কথায়, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির আধিকারিককে বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে হয়। সদ্য বাইরের রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে বদলি হওয়া আধিকারিক হয়তো ভুল করে পিএম বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে আমরা সব সময়ই ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড সহ রাজ্যের প্রকল্পের মাধ্যমেই ঋণের সুবিধা সুনিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকি।’