Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলে ভাসছে পানাগড়ের বহু এলাকা, গ্রাম পঞ্চায়েতকেই দুষছেন বাসিন্দারা

জলে ভাসছে পানাগড়ের বহু এলাকা,  গ্রাম পঞ্চায়েতকেই দুষছেন বাসিন্দারা
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: ক’দিনের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কাঁকসার পানাগড়ের একাধিক এলাকা। সারদাপল্লি, ট্যাঙ্কিতলা সহ বহু এলাকা দিন সাতেক ধরে জলবন্দি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেহাল নিকাশির জন্য জলমগ্ন হয়েছে গোটা এলাকা। 

Advertisement

মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখা গিয়েছে,পানাগড়ের রেলপাড়, রণডিহা মোড়, দক্ষিণ ক্যানাল পাড় থেকে শুরু করে সবজি মার্কেট সহ একাধিক জায়গা জলবন্দি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই পানাগড়ে জল জমে যাচ্ছে। নিকাশি ঠিকঠাক না থাকায় নর্দমার নোংরা জল বাড়িতে ঢুকছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টি হলেই রেলপাড়ে জল জমে যায়। আমাদের তো এই রাস্তা দিয়েই পানাগড় স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড যেতে হয়। জল জমার ফলে সমস্যা হচ্ছে। পড়ুয়ারা নোংরা জল পেরিয়েই স্কুলে যাচ্ছে। নেতারা নিকাশির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন । কিন্তু এখনও কাজ হয়নি। 
এদিন সকালে সব্জি মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেল জমা জল দোকানে ঢুকে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকার বাসিন্দারা এই আনাজ বাজারের উপরই নির্ভর করেন। স্থানীয়রা ছাড়াও সিলামপুর, ভরতপুর, আউশগ্রাম-২ ব্লকের কোটা, মারোর বাসিন্দারাও এখান থেকেই নিয়মিত আনাজ কেনেন। কিন্তু ক’দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে আনাজ বাজারে জল ঢুকে গিয়েছে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই সমস্যা হচ্ছে। এই আনাজ বাজার সংলগ্ন বেশ কয়েকটি ওষুধ ও মুদিখানার দোকান রয়েছে। সেসব দোকানেও জল ঢুকে বিচ্ছিরি অবস্থা। জলের কারণে দোকানে সামগ্রী রাখতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বিক্রেতারা। 
এক মুদি দোকানের ব্যবসায়ী বলেন, দোকানের ভিতরে জল ঢুকে যাওয়ায় সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত এই সমস্যা মেটানো হোক। সব্জি বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টির জেরে এমনিতেই ব্যবসার হাল খারাপ। তার উপর বিক্রেতারা জল ঠেঙিয়ে বাজারে আসতে চাইছেন না। আমরা প্রশাসনের ভরসায় না থেকে নিজেরা পাম্পের ব্যবস্থা করে জল নামানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু ফের বৃষ্টি হওয়ায় আবার জল জমেছে। সব্জি মার্কেটে আসা এক ক্রেতা তন্ময় ধর বলেন, বৃষ্টির নোংরা জল পেরিয়ে সব্জি মার্কেটে আসতে ইচ্ছে করে না।  
কংগ্রেস নেতা পূরব বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, জল জমার কথা পঞ্চায়েতকে বহুবার জানিয়েছি। নিকাশির দশা বেহাল দেখেও জনপ্রতিনিধিদের হেলদোল নেই। বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দিয়েছি আমরা। লোক দেখানো সার্ভেও হয়েছিল। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। 
কাঁকসা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান উজ্জ্বল মল্লিক বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ