নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর শহরে যেমন আড়ম্বরের সঙ্গে দুর্গাপুজো হয়, তেমনই হয় কালীপুজোর আয়োজন। শ’তিনেক বছরের প্রাচীন জনপদ মণিরামপুর। এখানকারই বাসিন্দা ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঐতিহাসিক শহর মণিরামপুরে থিম ও সাবেকির মেলবন্ধনেই এবার আয়োজন হচ্ছে কালীপুজোর। বারাকপুরের পুরনো কোর্ট পার করে মণিরামপুরের দিকে এগলেই চোখে পড়বে আলোর রোশনাই। এখানে মণ্ডপ তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। কোথাও ‘হংসরাজ’, কোথাও আবার থিম হল ‘স্বপ্নের দেশে’, ‘হারিয়ে যাওয়া শৈশব’, ‘ময়ূরমহল’।
মিস্ত্রি ঘাট বয়েজ ক্লাবের পুজোর থিম হংসরাজ। মণ্ডপে থাকছে কৃত্রিমভাবে তৈরি বড়মাপের একটি রাজহাঁস। কাপড়, ফোম, কাঠের চামচ, তুলো, চুমকি দিয়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। যার মধ্যে মা কালী সাবেকি সাজে অধিষ্ঠান করবেন। ৫৩ বছরের পুরনো এই পুজোর মণ্ডপ তো বটেই, গোটা এস এন ব্যানার্জি রোড নানা বর্ণময় আলোয় সেজে উঠছে। ওই রাস্তা ধরে কিছুটা এগলেই বটতলা স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো। ৬৯তম বর্ষে তাদের থিম ‘স্বপ্নের দেশে’। যেন এটি স্বর্গলোক। যেখানে মানুষ সুখে থাকেন। পুজো কমিটির কর্তা তপব্রত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উদ্বোধনের পর বহু নামীদামি শিল্পীরা অনুষ্ঠান করবেন।
নয়া বস্তি মহাবীর সমিতির পুজো এবার ৭৯ বছরে পড়ল। এই পুজোর থিম ‘হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব’। এই পুজোর অন্যতম কর্তা শিবু যাদব বললেন, আমাদের থিমপুজোর শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার। লোহা, পিতল দিয়ে ১৫ ফুট উচ্চতার দেবী প্রতিমা তৈরি করেছেন তিনি। যা দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দারের কথায়, আমাদের শিশুদের শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে। আগে শিশুরা নানা ধরনের খেলা খেলত। দুষ্টুমি করত। বিকেল হলেই মাঠে। আর এখন শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন। শিশুদের শৈশবই বদলে গিয়েছে। হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব। সেটাই মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মণিরামপুরে দাসপাড়া অ্যাথলেটিক ক্লাবের পুজোও অনেক প্রাচীন। কমিটির কর্তা বিবেক সিং বলেন, আমাদের থিম ‘ময়ূরমহল’। অনন্য সুন্দর মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। পুজোর বয়স ১০৭ বছর। আমাদের এলাকার বহু মানুষ এই পুজোর সঙ্গে জড়িত। এবার প্রাক-শতবর্ষে ইউনিভার্স ক্লাবের শ্যামা আরাধনা। হারিয়ে যাওয়া ডোকরা শিল্পকে ভিত্তি করে মণ্ডপ গড়ছে তারা। প্রতিমা তৈরি হচ্ছে ডোকরা শিল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই। প্রতিমা আসবে কুমোরটুলি থেকে। খেয়ালি ক্লাবের পুজো এবার ৫৯ বছরে পড়ল। তাদের এবারের থিম ‘রাজমহল’। মা আসবেন সাবেকিবেশে। জাগৃতি সংঘের ৭২ বছরের পুজোয় থিম, ‘ভক্তিতে মুক্তি’। পুজোর উপকরণ দিয়েই তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ।