Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘শান্তিচুক্তি’ ভঙ্গ, তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে তপ্ত মঙ্গলকোট

রাজ্য নেতৃত্বের  নির্দেশ অমান্য করেই বুধবার মঙ্গলকোটে তৃণমূলের এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর উপর হামলা চালাল।

‘শান্তিচুক্তি’ ভঙ্গ, তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে তপ্ত মঙ্গলকোট
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি বর্ধমান এবং সংবাদদাতা, কাটোয়া: রাজ্য নেতৃত্বের  নির্দেশ অমান্য করেই বুধবার মঙ্গলকোটে তৃণমূলের এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর উপর হামলা চালাল। একপক্ষের দু’জন গুরুতর জখম হয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযোগের তির মঙ্গলকোটের বিধায়কের ঘনিষ্ঠদের দিকে। যদিও তিনি অভিযোগ মানতে চাননি। অজয়ের পাড়ে নতুন করে অশান্তি শুরু হওয়ায় ফের মঙ্গলকোটে অমঙ্গলের বার্তা পাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি রাজ্য নেতৃত্ব ভালোভাবে দেখেনি। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তারা খোঁজ নিয়েছে।

Advertisement

কয়েক দিন আগে দলীয় বৈঠকে দু’পক্ষকে দ্বন্দ্ব মেটানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাতে সাময়িক ঐক্যর ছবি দেখা যায়। উভয়পক্ষ শান্তিচুক্তি মেনে নেয়। কিন্তু দু’দিন পরেই বদলে গেল মঙ্গলকোটের আবহাওয়া। এদিন সকালে মঙ্গলকোটের বনপাড়া গ্রাম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপক্ষর উপর আচমকা হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ তৃণমূলের বুথ সভাপতি সহ দু’জনকে আটক করেছে। গ্রামে পুলিশি টহল শুরু হয়েছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়ক বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত সাবির শেখ বাইক নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, নিয়ামত মোল্লা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ভাঙাচোরার ব্যবসা করেন। তাঁদের অভিযোগ, আচমকাই তাঁদের উপরে হামলা হয়। বাঁশ, লোহার রড দিয়ে দু’জনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মেরে সাবিরের পা ও কোমর ভেঙে দেওয়া হয়। আর নিয়ামত মোল্লার হাত ভেঙে দেওয়া হয়। তড়িঘড়ি দু’জনকে উদ্ধার করে নতুনহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সাবির বলেন, বিধায়ক ঘনিষ্ঠরা আমাদের মারধর করেছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক চন্দন সরকার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব জানাব। মঙ্গলকোটকে আর অশান্ত হতে দেব না। আর এক জখম নিয়ামত মোল্লা জানান, বুথ সভাপতি উজ্জ্বল শেখ ও তাঁর এক দাদা খাইরুল শেখ সহ বেশ কয়েকজন মিলে আমাদের উপরে আক্রমণ চালায়। পাল্টা উজ্জ্বল শেখের মেয়ে নাসিমা খাতুন বলেন, আমার বাবাকে ওরা ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল বেধড়ক পিটিয়েছিল। আমার বাবার হাত, পা, কোমর ভেঙে দিয়েছিল। বাবার হাতে ছ’টা অপারেশন হয়েছিল। ওরা সব সিপিএমের লোকজন। এদিন সকালে আমার দাদু বোরহান শেখকে ওরা মারধর করছিল। সে সময়ে ধস্তাধস্তি হয়, সাবির পড়ে যায়। এখন মিথ্যে অভিযোগ করছে। মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, ঠিক কী ঘটেছে আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি। তবে মঙ্গলকোটে শান্তি বিঘ্নিত হতে দেব না। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোটে বিধায়ক এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহারের গোষ্ঠীর মধ্যে টানাপোড়েন ছিল। পরে রাজ্য নেতৃত্বর নির্দেশে তাঁরা একে অপরের হাত ধরেন। বন্ধ পার্টি অফিস খোলায় ঐক্যের ছবি ছড়িয়ে যায়। কিন্তু নিচু তলায় এখনও রেষারেষি রয়ে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ