নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দুর্গাপুজো আসতে আর মাত্র দু’মাস। মূলত এই সময় থেকেই ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা আসা শুরু করেন হাওড়ার মঙ্গলাহাটে। ব্যবসাদাররা এই সময়কে বলেন, পিক সিজন টাইম। এ বছর তাঁরা পড়েছেন সমস্যায়। চলতি মাসে পরপর দু’বার সোম ও মঙ্গলবার নবান্ন অভিযান হয়েছে। ফলে ব্যবসা ছিল বন্ধ। এ কারণে চরম ক্ষতির মুখে মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরা। ভবিষ্যতে সোম ও মঙ্গল যাতে নবান্ন অভিযান না হয় তার জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন। এর পাশাপাশি মঙ্গলবার সকালে হাওড়া থানার সামনে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন তাঁরা। স্মারকলিপিও দিয়েছেন।
আট জুলাই অর্থাৎ জুন মাসের প্রথম মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল ‘যোগ্য গ্রুপ সি গ্রুপ ডি অধিকার মঞ্চ’। এরপর ১৪ জুলাই, সোমবার চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ঐক্যমঞ্চ নবান্ন অভিযান করে। এই দু’দিন কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল মধ্য হাওড়া। এই দু’দিন প্রশাসনের নির্দেশে ব্যবসা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন মঙ্গলাহাটের ব্যবসায়ীরা। জানা গিয়েছে, এ দু’সপ্তাহে মঙ্গলাহাটের ১৮টি হাট বিল্ডিং, ফুটপাতের লক্ষাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েন। প্রায় ১২ কোটি টাকার ব্যবসার ক্ষতি হয়। পুজোর আগে আবার অভিযান হলে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় সাত লক্ষ মানুষ পথে বসবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তা রুখতে শতাধিক ব্যবসায়ী মঙ্গলবার হাওড়া থানার সামনে বিক্ষোভও দেখান। ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রাজকুমার সাহা বলেন, ‘নিজেদের অধিকারের দাবিতে যাঁরা নবান্ন অভিযান করছেন আমরা তাঁদের পাশে আছি। কিন্তু এ কারণে প্রতি সপ্তাহে হাট বন্ধের নির্দেশ দিলে পুজোর আগে পথে বসতে হবে। পুলিস বলছে বিষয়টি তাদের এক্তিয়ারে পড়ে না। সে কারণেই আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছি।’ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি।
মঙ্গলাহাটের ব্যবসাদারদের বক্তব্য, জুলাই মাস থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত সহ ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা পোশাক নিতে মঙ্গলাহাটে ভিড় করেন। দু’মাস ধরে পুজোর ব্যবসা তুঙ্গে থাকে। কিন্তু এখন সোম ও মঙ্গল নবান্ন অভিযানের ফলে অন্য রাজ্যের ব্যবসায়ীরা মুখ ঘুরিয়েছেন। চলে গিয়েছেন অঙ্কুরহাটিতে জাতীয় সড়কের পাশে গড়ে ওঠা আধুনিক হাটগুলিতে। পোড়া মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত বলেন, ‘শুধু আমাদের ব্যবসা নয়, সোম ও মঙ্গল অভিযানের কারণে মধ্য হাওড়া অচল হয়ে পড়েছিল। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, চাকরিজীবীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। কারও যাতে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য আদালত বিকল্প ব্যবস্থার নির্দেশ দিক।’-নিজস্ব চিত্র