নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাস্তায় নয়, প্রশাসনের নির্দেশ মেনে শুধুমাত্র ফুটপাতেই বসল মঙ্গলবারের মঙ্গলাহাট। প্রশাসনের কড়া অবস্থানে একদিনের ব্যবধানে কার্যত বদলে গেল শতাব্দীপ্রাচীন মঙ্গলাহাটের চেহারা। সোমবারের বৈঠকের পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও শেষপর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, রাস্তা দখল না করে ফুটপাতের একপাশে বসে ব্যবসা করা যাবে। এরপরই স্বস্তি ফেরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে। অন্যদিকে, রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা থাকায় স্বস্তি পেয়েছেন পথচারী থেকে গাড়িচালকরা।
প্রতি মঙ্গলবার হাওড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র হাওড়া ময়দান এলাকায় বসে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলাহাট। সোমবার রাত থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। ভোর ৪টে থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাওড়া ময়দান, মহাত্মা গান্ধী রোড, জিটি রোড, হাওড়া থানা, জেলা হাসপাতাল ও অর্থোপেডিক হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তা এবং ফুটপাত জুড়ে ব্যবসা করেন। দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, দুই বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ক্রেতা আসেন এখানে। ফলে সকাল থেকেই তীব্র যানজট তৈরি হয়। অভিযোগ, কখনও কখনও হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও সমস্যা দেখা দিত।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার মঙ্গলাহাটের সাতটি ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে হাওড়া সিটি পুলিশ। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, এবার থেকে রাস্তায় বসে ব্যবসা করা যাবে না। গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা চলবে না। প্রশাসনের এই মৌখিক নির্দেশের পর আতঙ্কে পড়ে যান বিশেষ করে ফুটপাতে বসা প্রায় ১০ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতেই ব্যবসায়ী সমিতির তরফে রাজ্য বিজেপির সভাপতির কাছে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখার আবেদন জানানো হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে একপ্রকার আশঙ্কা নিয়েই পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীকে এদিন রেলিংয়ের ভিতরে ফুটপাতে বসতে দেখা যায়। ট্রাফিক পুলিশের তরফে মাইকিং করে রাস্তা ফাঁকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সোম ও মঙ্গলবার দুপুর ১২টার মধ্যেই দোকান গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতদিন শুধু রাস্তার উপরই নয়, বড়ো নিকাশি নালার উপরে কাঠের তক্তা বসিয়ে ব্যবসায়ীরা পসরা সাজাতেন। এর ফলে যান চলাচলের পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হতো বলে অভিযোগ। এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনোভাবেই আর নর্দমার উপর কাঠের তক্তা বসিয়ে ব্যবসা করা যাবে না।
ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছে, রাস্তা ফাঁকা থাকায় এদিন হাটে আগের মতো বিশৃঙ্খলা বা উৎপাত হয়নি। যদিও জায়গা কমে যাওয়ায় খদ্দেরদের পছন্দমতো জিনিস দেখাতে সমস্যা হয়েছে এবং বিক্রিবাটাও তুলনায় কম হয়েছে। মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত বলেন, ‘পথচারীদের যাতে সমস্যা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করছেন। প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’ অন্যদিকে, ছোটো ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সম্পাদক রাজকুমার সাহা। নিজস্ব চিত্র