নিজস্ব প্রতিনিধি, নাকাশিপাড়া: নাকাশিপাড়ায় দুর্গাপুজোয় এবার দেখা যাবে ওড়িশার স্থাপত্যশৈলী। ওই রাজ্যের নীলকণ্ঠেশ্বর মন্দিরের আদলে সুবিশাল মণ্ডপ গড়ে তুলছে ধর্মদা যুব সংঘ। নিপুণ হাতে মণ্ডপের দেওয়ালে সূক্ষ্ম কারুকার্য ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা।
এবার ধর্মদা যুব সংঘের দুর্গোৎসব ৭৯তম বর্ষে পা রেখেছে। মণ্ডপের প্রতিটি অংশে নীলকণ্ঠেশ্বর মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পঞ্চমী থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ খুলে দেওয়া হবে। পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ এই পুজো দেখতে আসেন। এবছর পুজোর বাজেট প্রায় আটলক্ষ টাকা।
ক্লাবের সম্পাদক শংকর স্বামী ঘোষ বলেন, আমরা সরকারি আর্থিক সাহায্য পেয়েছি। এই আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে আনন্দ দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমাদের এখানে ডাকের সাজে সজ্জিতা ‘মা পরমেশ্বরী’র দর্শনে বহু মানুষ আসবেন।
ধর্মদা যুব সংঘের দুর্গাপুজোর সঙ্গে গ্রামের মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও সম্মিলিত উদ্যোগের ইতিহাস জড়িত রয়েছে। একসময় বাড়ির পুজো হিসাবেই এই উৎসবের সূচনা হয়েছিল। গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে চারদিন ধরে পুজোর আনন্দে মেতে উঠতেন। পরে নানা সমস্যার কারণে পুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। সেসময় গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসেন। তাঁদের সহযোগিতায় এখন পারিবারিক পুজোটি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের রূপ পেয়েছে।
ক্লাবের প্রতিষ্ঠালগ্নে শংকরকুমার দাস, উমাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঘনশ্যাম দত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের উদ্যোগেই নাকাশিপাড়ার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।



