Bartaman Logo
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিপুরের হরিপুরে উন্মাদনা, হস্তচালিত তাঁতের যন্ত্রপাতি দিয়ে তৈরি মনসাতলার রথ

এই রথযাত্রা মোটেই প্রাচীন নয়। এবার সবে অষ্টম বর্ষে পা দিতে চলেছে। তা সত্ত্বেও নদীয়ার শান্তিপুরের ঐতিহ্যের সঙ্গে এই রথযাত্রা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে।

শান্তিপুরের হরিপুরে উন্মাদনা, হস্তচালিত তাঁতের যন্ত্রপাতি দিয়ে তৈরি মনসাতলার রথ
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: এই রথযাত্রা মোটেই প্রাচীন নয়। এবার সবে অষ্টম বর্ষে পা দিতে চলেছে। তা সত্ত্বেও নদীয়ার শান্তিপুরের ঐতিহ্যের সঙ্গে এই রথযাত্রা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। কথা হচ্ছে শান্তিপুরের হরিপুর মনসাতলার রথযাত্রা নিয়ে। এই রথযাত্রা শান্তিপুরের বিখ্যাত তাঁতশিল্পের প্রতীক।

Advertisement

শান্তিপুরের হাতে টানা তাঁতে তৈরি শাড়ি সারা বিশ্বে বন্দিত হয়েছে। একসময় শান্তিপুরের বেশিরভাগ মানুষই রুটিরুজির জন্য হস্তচালিত তাঁতের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। ধীরে ধীরে শাড়ির বাজারে পাওয়ারলুম থাবা বসায়। ফলে ধীরে ধীরে হাতে টানা তাঁত পিছিয়ে পড়তে থাকে। এখন একমাত্র ফুলিয়া বাদে শান্তিপুরে আর হস্তচালিত তাঁত অবশিষ্ট নেই।
কিন্তু শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী হাতে টানা তাঁতকে পুরোপুরি বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। এই ঐতিহ্যকে মানুষের মনে সদা উজ্জ্বল রাখতে এগিয়ে এসেছিলেন হরিপুরের রথতলার কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁরা হস্তচালিত তাঁতের কাঠের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আস্ত একটি রথ তৈরির পরিকল্পনা করেন। যেমন ভাবা, তেমনি কাজ। বিভিন্ন এলাকার তাঁতশিল্পীদের থেকে হস্তচালিত তাঁতের নরজ, বোয়া, কোল নরজ, ডাঙ্গি, মেরা প্রভৃতি কাঠের যন্ত্র জোগাড় করা হয়। শান্তিপুরের শতাধিক তাঁতশিল্পী বাতিল হয়ে যাওয়া এসমস্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সেই সমস্ত কাঠের যন্ত্রপাতি দিয়ে একখানি আস্ত রথ গড়ে ওঠে। ফলে শুরুর বছর থেকেই হরিপুরের মনসাতলার রথ শান্তিপুরের মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
ফি বছর এই রথ ঘিরে মনসাতলায় ব্যাপক জনসমাগম হয়। রথের রশিতে টান দিতে আশপাশের এলাকা থেকে কমবেশি হাজার দশেক মানুষ ভিড় জমান। এমনকী, হুগলি থেকেও অনেক মানুষ আসেন। রথকে ঘিরে মেলা বসে। উল্টোরথ অবধি এলাকায় টানা উৎসব চলে।
এই রথযাত্রার অন্যতম উদ্যোক্তা রুমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা আগে দেখতাম, শান্তিপুরের মানুষ মহেশ অথবা গুপ্তিপাড়ায় রথ দেখতে যেতেন। আমরা ভেবেছিলাম, হস্তচালিত তাঁতের বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করে রথ তৈরি করলে তা এই অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠবে। সেই ভাবনা থেকেই আমরা তাঁতিদের কাছে গিয়েছিলাম। প্রথমেই আমরা ৫০টি নরজ (তাঁতের যে কাঠে সুতো জড়ানো থাকে) পেয়ে যাই। পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঠের আরও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে এই রথ তৈরি করা হয়। এটা হরিপুর সহ পুরো শান্তিপুরের ঐতিহ্য তাঁতশিল্পের প্রতীক। পরবর্তীকালে এলাকার তাঁতি ও সাধারণ মানুষের অর্থসাহায্যে এলাকায় জগন্নাথ মন্দিরও গড়ে উঠেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ