সংবাদদাতা, খড়্গপুর: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় এবার পঞ্চমুখ হলেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। দীর্ঘ বেশ কয়েকদিন পর সবংয়ে পৌঁছে সোমবার রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে মানসবাবু বলেন, ‘শুভেন্দু আমাদের মেদিনীপুরের ছেলে। ওঁর বাবা শিশিরদা ছিলেন আমাদের নেতা। শুভেন্দু লড়াকু ছেলে। ছাত্র, যুব রাজনীতি করে উঠে এসেছে। অজয় মুখোপাধ্যায়ের পর মেদিনীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী। এটা কম কথা নয়। মেদিনীপুরের মানুষ হিসেব আমরা গর্বিত।’ প্রবীণ এই নেতার সংযোজন, ‘বিধানচন্দ্র রায়ের পর মেদিনীপুরকে আর কেউ সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি।’ তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এদিন ‘অভিমান’ প্রকাশ পায় মানসবাবুর কথায়। তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে আমি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলাম। বামফ্রন্ট সরকারের পতনে কাঠবেড়ালির মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহযোগিতা করেছিলাম। খারাপ লাগে, কেউ তা স্বীকার করে না। আজ অবধি স্বীকৃতিও দেয়নি!’ তবে, রাজ্যে তৃণমূলের বিপর্যয়ের জন্য অন্যদের মতো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা আইপ্যাককে দায়ী করেননি মানসবাবু। তিনি বলেন, ‘জিতলে আমার কৃতিত্ব। আর হারলে ও দোষী। এটা ঠিক নয়। একসময় অনেকেই অভিষেকের সঙ্গে দেখা করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকত।’
সবংয়ে পরাজয়ের দায়ও নিজের ঘাড়েই তুলে নেন মানসবাবু। তিনি বলেন, ‘টিম ক্যাপ্টেন হিসেবে এই হারের দায় আমারই। নিশ্চয়ই কোথাও কোনো ফাঁকফোকর থেকে গিয়েছিল। এজন্য কাউকেই দায়ী করব না।’ ১৯৮২ থেকে ২০২৬। ৪৪ বছরের সংসদীয় রাজনীতিতে এই নিয়ে মাত্র দু’ বার সবংয়ে পরাস্ত হলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এদিন পুরনো দিনের বহু স্মৃতি রোমন্থন করেন মানসবাবু। সেইসঙ্গেই তিনি জানিয়ে দেন, ‘সবং ছেড়ে আজ পর্যন্ত কোথাও যাইনি। ভবিষ্যতেও যাব না। সবংয়েই আমি মরব।’ গত কয়েকদিন ধরেই তাই সবংয়ের বিভিন্ন প্রান্তে একটাই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছিল, ‘মানসবাবু কোথায়?’ শেষমেশ রবিবার রাতে সবংয়ের ভিকনিনিশ্চিন্তপুরের বাড়িতে পৌঁছন সদ্য প্রাক্তন হওয়া বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। সোমবার দলীয় কার্যালয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
এগারো হাজারের কিছু বেশি ভোটে এবার বিজেপির অমল পন্ডার কাছে পরাজিত হন মানসবাবু। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই অমলবাবুই ছিলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী। স্মৃতি রোমন্থন করে এদিন মানসবাবু বলেন, ‘সুখে-দুঃখে একসঙ্গে দীর্ঘদিন কংগ্রেসটা করেছি। পরিশ্রমী একজন নেতা, কর্মী।’ নির্বাচনের মাত্র কয়েকমাস আগে অমলবাবুর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে যাওয়ার জন্য দলেরই একাংশকে দায়ী করেন মানসবাবু। সেই তালিকায় তিনি সবার উপরে রেখেছেন কলকাতার তৃণমূল ভবনের এক শীর্ষ নেতা এবং ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার এক শীর্ষনেতাকে। যদিও, এই বিষয়ে স্বয়ং অমলবাবু এদিন বলেন, ‘আমি তো প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, আমার তৃণমূল ছাড়ার কারণ বিশ্লেষণ করুক মানসবাবুরা। যদিও, এখন এসব কথা অবান্তর।’ একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা, অন্যদিকে অমলবাবুর প্রতিও নরম মনোভাব পোষণ। তবে কি দলবদল করতে চলেছেন মানস ভুঁইয়া? সেই জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি মানসবাবু। তিনি বলেন, ‘আমি কাপুরুষ নই। যখন যা করেছি, সবাইকে জানিয়ে করেছি। কংগ্রেস আমাকে সাসপেন্ড করে। সেইসময় তৃণমূলে গিয়েছি আমার সবংয়ের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে। ভবিষ্যতেও যা করব সবাইকে জানিয়েই করব।’