সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও জব্বার শেখ ও তাঁর দুই নাবালক সন্তানকে ‘বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের সূতি থানার নুরপুর গ্রামে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্বামী ও সন্তানহীন ঝুমা বিবির ঘর এখন খাঁ খাঁ করছে। ন্যায়বিচারের আশায় শেষপর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সূতির নুরপুরেই কেটেছে জব্বারের শৈশব। তাঁর বাবা নাইমুল রশিদ বহু বছর আগে বাংলাদেশ থেকে চলে আসেন। এসে এ দেশীয় এক মহিলাকে বিবাহ করলেও, নাইমুলের মৃত্যুর পর জব্বারকে মানুষ করেন তাঁর মাসি ও মেসো। জব্বারের স্ত্রী ঝুমা বিবির বাপের বাড়ি বড়ো কাঁকড়ামারি গ্রামে। তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে বড় দুই সন্তান আব্দুল আহাদ ও জিহাদ এদেশেই জন্মায়। মেসো জামিরুলের অভিযোগ, মধ্যরাতে পুলিশ এসে জব্বারকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে দুই নাবালক ছেলেকে থানায় দেখা করতে ডেকে আটকে দেওয়া হয়। ওদের সমস্ত ভারতীয় নথিপত্র রয়েছে, তবুও পুলিশ জোর করে পুশ ব্যাক করল। ১১ মাসের ছোট সন্তানকে নিয়ে এখন বাপের বাড়িতে অশ্রুসজল নয়নে দিন কাটাচ্ছেন ঝুমা বিবি। এই ঘটনায় আগেই সরব হয়েছিলেন জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান। পুলিশের অতি সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পুলিশের উচিত আরও নিখুঁত তদন্ত করা। সন্দেহ হলে প্রয়োজনে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হোক, কিন্তু প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে ওপারে পাঠানো অনুচিত। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাচক্রে, সূতির রমাকান্তপুর এলাকার ইব্রাহিম শেখকেও একইভাবে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে সীমান্ত পার করে দিয়েছে বলে অভিযোগ। শ্বশুরকে ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে মামলা করেছেন তাঁর পুত্রবধূ পরভিন খাতুন। নুরপুরের জব্বারের পরিবারও এখন আদালতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে পুশ ব্যাক বিতর্কে আপাতত উত্তপ্ত সূতির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডল।



