Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুলিস কর্মীদের হামলাকারী যুবক আদতে বাংলাদেশি

উত্তর বন্দর থানা এলাকার স্ট্র্যান্ড রোডে দুই পুলিস কর্মীকে ছুরি মারার ঘটনায় অভিযুক্ত সুলতান আসলে বাংলাদেশি।

পুলিস কর্মীদের হামলাকারী  যুবক আদতে বাংলাদেশি
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর বন্দর থানা এলাকার স্ট্র্যান্ড রোডে দুই পুলিস কর্মীকে ছুরি মারার ঘটনায় অভিযুক্ত সুলতান আসলে বাংলাদেশি। সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে আসার পর ঘাঁটি গেড়েছিল বন্দর এলাকার গঙ্গার ধারে। সেখানে শুরু করেছিল মাদক ব্যবসা। তৈরি করে ফেলেছিল ভারতীয় পরিচয় পত্র। 

Advertisement

শনিবার রাতে স্ট্র্যান্ড রোডে নিয়মমাফিক টহলদারির ডিউটিতে ছিলেন এএসআই পার্থ চাঁদ ও কনস্টেবল শুভেন্দু মাঝি। তাঁরা এক ব্যক্তিকে দেখেন নেশার দ্রব্য বিক্রি করছে। তার হাতে রয়েছে একটি রড। মাদক বিক্রি বন্ধ করতে বললে সে চড়াও হয় পুলিসের উপর। সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে এএসআইয়ের গালে আঘাত করে, কনস্টেবলের ঘাড়ে মারে। আহত অবস্থায় তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, এই ঘটনা ঘটিয়েছে সুলতান নামে এক যুবক। ওই এলাকায় সে গাঁজা সহ বিভিন্ন নেশার দ্রব্য বিক্রি করে। রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে উত্তর বন্দর থানা। তাকে জিজ্ঞাসা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সে অনেকদিন ধরেই এলাকায় এক ঝুপড়িতে থাকছে। সন্ধ্যা নামলেই পুলিসের নজর এড়িয়ে ঘুরে ঘুরে গাঁজা হেরোইন বিক্রি করে। রাতে এলাকা ফাঁকা হলে সে নেশার দ্রব্য নিয়ে ফুটপাতে বসে পড়ে। শনিবার নেশার ঘোরে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিসের কাছে অভিযুক্ত বলে এলাকায় সকলেই তাকে সুলতান বলেই চেনে। আসলে সে একজন বাংলাদেশি। ঢাকায় বাড়ি ছিল তার। দশ বছর বয়সে এক পরিচিতের মাধ্যমে সে সীমান্ত পেরিয়ে এই রাজ্যে চলে আসে। যার হাত ধরে সে ভারতে এসেছিল, সেই ব্যক্তির লোকজন স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন গঙ্গার ঘাটের কাছে থাকত। সেই কারণে সুলতানও এই জায়গায় থাকতে শুরু করেছিল। 
অভিযুক্তের দাবি, বিপুল মণ্ডল নামে সে ভোটার কার্ড তৈরি করেছিল। এমনকী দালাল ধরে অন্য ভারতীয় নথিও বানিয়ে ফেলে সে। ভারতীয় বনে যাওয়ার পর সে নিষিদ্ধ মাদকের কারবার শুরু করে। গঙ্গার ধার ও তার সংলগ্ন রেল লাইনে এই নেশার জিনিস বিক্রি করত। স্থানীয় লোকজন ছিল তার ক্রেতা। মাদক বেচে যে টাকা সে আয় করত, তার পুরোটাই মদ খেয়ে উড়িয়ে দিত। ধৃত তদন্তকারীদের জানিয়েছে, পুলিসকে সে এই প্রথম আক্রমণ করেনি। বছর খানেক আগে এক আরপিএফ কর্মীকে রেল লাইনের পাথর ছুঁড়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এই অভিযোগে সে গ্রেপ্তারও হয়। রবিবার ধৃতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে তিনদিনের পুলিস হেফাজতে পাঠান। একইসঙ্গে কে ওই বাংলাদেশিকে নথি তৈরি করে দিয়েছিল, সেটিও জানার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ