Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হেডফোন কানে লাইন পারাপার বারাসতে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু

বৃহস্পতিবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বারাসতের ১২ নম্বর রেলগেট এলাকায়।

হেডফোন কানে লাইন পারাপার বারাসতে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও বারাকপুর: কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল গৃহবধূর। বৃহস্পতিবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বারাসতের ১২ নম্বর রেলগেট এলাকায়। জিআরপি এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম ঝুমা মজুমদার। পরে পরিবারের লোকজন এসে গৃহবধূর দেহ শনাক্ত করেছে। তাঁর বাপের বাড়ি মধ্যমগ্রামে। বিয়ে হয়েছিল বারাসতে। এদিন রেললাইন টপকে যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় তাঁর। মৃতদেহের কাছ থেকেই একটি মোবাইল উদ্ধার করেছে জিআরপি। স্থানীয় ও জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ১২ নম্বর রেলগেটের দক্ষিণ অংশে লাইন টপকে যাচ্ছিলেন ঝুমা মজুমদার। তাঁর কানে লাগানো ছিল হেডফোন। সেই অবস্থাতেই তিনি রেললাইন পারাপারের চেষ্টা করেন। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ডাউন দত্তপুকুর-শিয়ালদহ লোকাল আসছিল। কিন্তু কানে হেডফোন থাকায় ট্রেনের হর্ন শুনতে পাননি ঝুমা। লাইন পার হওয়ার সময়েই ট্রেনের ধাক্কা লাগে। ট্রেনের সামনে ক্যাচারে আটকে কিছুটা যাওয়ার পরই ছিটকে যান মহিলা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ঝুমার দেহ উদ্ধার করে বারাসত জিআরপি। প্রত্যক্ষদর্শী ননীগোপাল ঘোষ বলেন, গৃহবধূর দুটি কানেই হেডফোন লাগানো ছিল। সেই অবস্থাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত পেরতে গিয়েই প্রাণ গেল। যদিও এনিয়ে গৃহবধূর পরিবারের লোকজন অবশ্য মুখ খুলতে চাননি।

Advertisement

প্রসঙ্গত, রেললাইন টপকে যাতায়াত রুখতে বারাসতের ১২ নম্বর রেলগেটে তৈরি হয়েছে আন্ডারপাস। কিন্তু তারপরেও রেলগেটের দক্ষিণ অংশে লাইনের ধারে ফেন্সিং না থাকায় ওই অংশ দিয়ে বহু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেন। বছরখানেক আগে লাইন টপকে যেতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল বারাসত কোর্টের এক তরুণী আইনজীবীর। পুলিসের আক্ষেপ, বারবার সচেতন করা হলেও মানুষের হুঁশ ফিরছে না। হেডফোন কানে লাইন পারাপার বন্ধ করা যাচ্ছে না। 
এদিকে, বৃহস্পতিবার টিটাগড় স্টেশনের সামনে ১১ নম্বর রেল গেট পার হতে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হল। মৃত বৃদ্ধের নাম মুন্না মস্তানা। তাঁর বাড়ি বীরভূমের দুবরাজপুরে। বয়স ৬৭। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বিএন বসু হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পুলিস। ঠিক একদিন আগেই টিটাগড়ে বুধবার ট্রেন ধরতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে 
এক যুবকের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ