Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়ার জেলে বসে বিহারের দোকানে ডাকাতির ছক, ২৫ কোটির অলঙ্কার লুট

পুরুলিয়ার জেলে বসে বিহারের দোকানে ডাকাতির ছক, ২৫ কোটির অলঙ্কার লুট
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার জেলে বসেই বিহারের স্বর্ণ বিপণিতে ডাকাতির ছক! লুট প্রায় ২৫ কোটি টাকার সোনার গয়না! ফের শিরোনামে কুখ্যাত গ্যাংস্টার চন্দন কুমার ওরফে প্রিন্স। তার বিরুদ্ধেই পুরুলিয়ার জেলে বসে বিহারের বিখ্যাত স্বর্ণ বিপণিতে ডাকাতির যোগ খুঁজে পেয়েছে পুলিস। পুরুলিয়া সংশোধনাগারে চন্দনের কাছ থেকে একটি মোবাইল, সিম কার্ড সহ বেশকিছু সামগ্রীও উদ্ধার করেছে পুলিস। এনিয়ে জেল কর্তৃপক্ষের তরফে পুরুলিয়া টাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। তবে, জেলের ভিতর মোবাইল কীভাবে এল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

Advertisement

গত সোমবার বিহারের ভোজপুর জেলার আরায় একটি গয়না প্রস্তুতকারক স‌ংস্থার বিপণিতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওইদিন সকাল ১০টা নাগাদ দোকান খোলার কিছুক্ষণ পরেই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিপণিতে চড়াও হয় ছয় দুষ্কৃতী। তারপর লুটপাট চালাতে থাকে। পুলিস সূত্রের খবর, মাত্র ১৭ মিনিটে দোকান থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকার গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে বাইকে চড়ে উধাও হয়ে যায় দুষ্কৃতী দল। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিস। একসময় পুলিসের মুখোমুখিও হয় দুষ্কৃতীরা। শুরু হয় গুলির লড়াই। ধরা পড়ে বিশাল গুপ্ত এবং কুণাল কুমার নামে দুই অভিযুক্ত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই উঠে আসে কুখ্যাত গ্যাংস্টার চন্দন কুমার তথা প্রিন্সের নাম। মেলে চন্দনের মোবাইল নম্বরও। সেই ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে বিহার পুলিস জানতে পারে, ফোনটি রয়েছে পুরুলিয়া সংশোধনাগারেই! পুলিস সূত্রের খবর, এরপরেই বিহার পুলিসের তরফে যোগাযোগ করা হয় পুরুলিয়া জেলা পুলিসের সঙ্গে। বিষয়টি জানতে পেরেই জেলার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় খবর দেন জেল সুপার স্বপনকুমার দাসকে। এরপরই জেলে তল্লাশি শুরু হয়। জেলের ২ নম্বর ওয়ার্ডে তল্লাশি চালিয়ে চটের ব্যাগ থেকে একটি সিমকার্ড লাগানো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও একটি ব্লুটুথ ইয়ার ফোন উদ্ধার হয়। এরপরেই পুরুলিয়া টাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জেল সুপার। তবে জেলের মধ্যে ফোন কীভাবে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সংশোধনাগারের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট ঘরে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে বন্দিরা ফোনে কথা বলতে পারেন। পুরো কথাবার্তা জেল কর্তৃপক্ষের নজরদারিতেই হয়। সেই প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই জায়গায় সংশোধনাগারে কী করে ফোন এল, তা পুলিসকে  ভাবাচ্ছে। তবে জেল খাটা বহু আসামিরই দাবি, টাকা ফেললে সংশোধনাগারে ফোন থেকে ভিআইপি ট্রিটমেন্ট-সবই মেলে।
পুলিস সূত্রের খবর, চন্দনকুমার ওরফে প্রিন্স বিহারেরই বাসিন্দা। ২০২২ সালে পুরুলিয়ার হুড়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির বহু অভিযোগই রয়েছে। তাকেই বিহারের সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় কিংপিং বলে দাবি পুলিসের। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। বিহার পুলিসকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করা হবে। প্রসঙ্গত, এর আগে বিহারের জেলে বসে বাংলার একের পর এক স্বর্ণ বিপণিতে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছিল গ্যাংস্টার সুবোধ সিংয়ের বিরুদ্ধে। এবার যেন তারই উলটপুরাণ!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ