নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আট বছরের ছেলের সামনে কুড়ুল দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ফাঁসির সাজা হল এক যুবকের। সোমবার ওই সাজার নির্দেশ দেন জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের তৃতীয় কোর্টের বিচারক বিপ্লব রায়। সাজাপ্রাপ্তর নাম সুজিত দে ভৌমিক (৩৭)। বাড়ি ময়নাগুড়ির চারেরবাড়ি ডাঙাপাড়া এলাকায়। পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এই সন্দেহের বশে ২০২৩ সালের ২০ জুন ময়নাগুড়ির ধরলাগুড়ি সরকারপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রী মিতালি দে ভৌমিককে (৩২) নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে সে। বাধা দেওয়ায় শাশুড়ি কল্পনা সরকার (৫২) ও তাঁর মা অর্থাৎ মিতালির ৮৪ বছরের দিদিমা হিরণবালাকে সুজিত খুনের চেষ্টা করে। দু’জনেই গুরুতর জখম হন।
ঘটনায় মিতালির দিদি চৈতালি সরকার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার দিন তিনি বাপেরবাড়িতে ছিলেন। শ্বশুরবাড়িতে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার পর পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। কিন্তু তাকে ধরে ফেলে পুলিস। এরপর দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। মাকে খুনের ঘটনায় বাবার বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেয় নিহতের আট বছরের ছেলে। এছাড়া আরও ১৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন এই মামলায়। নাবালক ছেলের সামনে যেভাবে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করেছে অভিযুক্ত, তা বিরলতম আখ্যা দিয়ে এদিন সুজিতকে ফাঁসির নির্দেশ দেয় আদালত। একইসঙ্গে শাশুড়ি ও দিদা শাশুড়িকে খুনের চেষ্টার ঘটনায় তাকে যাবজ্জীবন সাজার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সঙ্গে তার বিরুদ্ধে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। ওই টাকা নিহতের ছেলের পড়াশোনার কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এদিন সাজা শুনতে দিদার সঙ্গে আদালতে এসেছিল নিহতের ছেলে। সে এখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। যদিও সাজা ঘোষণার পর নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে সুজিত। অভিযুক্তর পক্ষের আইনজীবী উদয়শঙ্কর সরকার বলেন, ঘটনার আধঘণ্টা আগেও স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসে গল্প করেছে। এর থেকে বোঝা যায়, ঘটনাটি মোটেই পূর্বপরিকল্পিত নয়। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই একে অপরকে সন্দেহ করত। জেলা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব।
মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী প্রসেনজিৎ দেব বলেন, ২০১৩ সালে প্রেম করে বিয়ে হয় সুজিত ও মিতালির। কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রীকে বাপেরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিত সে। তাছাড়া তার এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মিতালি তা জানতে পেরে গিয়েছিলেন। সেকারণেই পথের কাঁটা স্ত্রীকে সরিয়ে দিতে তাঁকে খুন করে সুজিত। নিহতের মা কল্পনা সরকার বলেন, ঘটনার কিছুদিন আগে আমার স্বামী মারা যায়। সেকারণে মেয়েরা আমার বাড়িতেই ছিল। আচমকা মেয়ের চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখি, কুড়ুল দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ বসিয়ে দিয়েছে জামাই। বাধা দেওয়ায় আমাকে এবং আমার বৃদ্ধা মাকেও খুনের চেষ্টা করে সে। - নিজস্ব চিত্র।